প্রথম শ্রেণির পৌরসভা নওগাঁয় নেই একটি পাবলিক টয়লেট, ভোগান্তিতে আড়াই লাখ মানুষ | Daily AjKaler Kontho

প্রথম শ্রেণির পৌরসভা নওগাঁয় নেই একটি পাবলিক টয়লেট, ভোগান্তিতে আড়াই লাখ মানুষ


রিজভী আহম্মেদ রিজোয়ান, নওগাঁ প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৫, ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ন
প্রথম শ্রেণির পৌরসভা নওগাঁয় নেই একটি পাবলিক টয়লেট, ভোগান্তিতে আড়াই লাখ মানুষ

প্রথম শ্রেণির পৌরসভা নওগাঁয় আড়াই লাখ মানুষের বাস। তবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে একটিও পাবলিক টয়লেট (গণ শৌচাগার) নেই। পুরুষরা চক্ষুলজ্জা এড়িয়ে রাস্তা ধারে কিংবা খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে গেলেও শৌচাগারের তীব্র সংকটে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নানা কাজে ঘরের বাইরে যাওয়া নারীদের।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৩ সালে নওগাঁ পৌরসভার যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮০ সালে এটি দ্বিতীয় শ্রেণি এবং ১৯৮৯ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। প্রায় ৩৮ দশমিক ৩৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে বসবাস করেন প্রায় আড়াই লাখ মানুষ।
এ ছাড়া প্রতিদিন জেলার ১১টি উপজেলা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ নানা প্রয়োজনে শহরে আসেন। অথচ তাদের ব্যবহারের জন্য নেই কোনো পাবলিক টয়লেট।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ঢাকা বাসস্ট্যান্ড, বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, বাটার মোড়, তাজের মোড়, গোস্তহাটির মোড়, মুক্তির মোড়, কাজীর মোড়, দয়ালের মোড়, কেড়ির মোড় এবং ডিগ্রি কলেজ মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোনো গণশৌচাগার নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়ার ৩৬ বছর পেরিয়ে গেলেও নাগরিক সেবার এ মৌলিক সুবিধাটি নিশ্চিত করা হয়নি। টয়লেটের অভাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন নারীরা। অনেক পুরুষ বাধ্য হয়ে ড্রেন বা নির্জন স্থানে প্রস্রাব করলেও নারীদের জন্য তেমন কোনো বিকল্প নেই।

অনেকে এলাকার বিভিন্ন মসজিদের নির্ধারিত শৌচাগার ব্যবহার করেন। তাতেও বিপত্তি! পরিচ্ছন্ন রাখতে কেবল নামাজের ওয়াক্তে খোলা হয় এ শৌচাগারগুলো। বাকি সময় সেগুলো তালাবদ্ধ থাকে।

শহরে আসা ভুক্তভোগী নারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গ্রাম বা দূরবর্তী উপজেলা থেকে শহরে আসার আগে থেকেই তাঁদের শৌচাগারের দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। বাইরে থাকা অবস্থায় সমস্যা এড়াতে অনেকে খাবার ও পানি গ্রহণ একপ্রকার বন্ধই করে দেন। অনেক সময় অবস্থা বেগতিক হলে কাজ অসমাপ্ত রেখেই দ্রুত বাড়ি ফিরে যেতে হয়। অন্যদিকে, অন্যান্য জেলা থেকে আসা সাধারণ যাত্রীরাও শহরের কোথাও টয়লেট না পেয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে পরিবেশকর্মী নাইস পারভীন বলেন, নওগাঁর মতো একটি জেলা শহরে গণশৌচাগার না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং বিশেষ করে নারীদের চলাচলের ক্ষেত্রে বড় বাধা। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় কোনো গণ শৌচাগার না থাকার বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু বলেন, ‘আমাদের কিছু উন্নত ও নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি দ্রুত আমরা এ কাজ শুরু করব।’

নওগাঁ পৌরসভার প্রশাসক টি.এম.এ. মমিন বলেন, পাবলিক টয়লেট অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। একটি প্রকল্পের মাধ্যমে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গণশৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি