
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নাটকীয় ও জোরালো আত্মপ্রকাশের পর তরুণ নেতা অভিজিৎ দীপকের জীবনে এখন এক নতুন ভোরের সূচনা।
নিট প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন এবং সরকার আন্দোলনকারীদের বাকি দাবিগুলোও মেনে নিয়েছে। ফলে টানা লড়াইয়ের পর এখন কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ মিলেছে দেশব্যাপী গড়ে ওঠা এই আন্দোলনের ৩০ বছর বয়সি মূল কাণ্ডারীর।
বিশ্রামের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘অবশেষে আমি আমার ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পেরেছি। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে আমাকে আর ভাবতে হয়নি যে সারাদিন কী করব বা সন্ধ্যা পর্যন্ত কী ঘটতে যাচ্ছে।’
দীপকেকে বেশ চাপমুক্ত দেখাচ্ছিল। রোববার (২৬ জুলাই) সকালে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি ৩৭ দিনের এই দীর্ঘ প্রতিবাদ কর্মসূচির অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। পুরো আন্দোলনকে তিনি বর্ণনা করেন ‘অত্যন্ত কঠিন ও জটিল’ হিসেবে।
তবে অনুসারীদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা কেবল শুরু। ককরোচ জনতা পার্টির পথচলা এখনো অনেক বাকি।’
গত মে মাসে দেশের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের জেরে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই সিজেপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দীপকে। কিন্তু দেখতে দেখতেই এটি রূপ নেয় এক বিশাল গণআন্দোলনে, যা পরবর্তী প্রায় ৭০ দিন ধরে ভারতের ‘জেন-জি’ বা তরুণ প্রজন্মকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলে।
খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হাজার হাজার তরুণ সমর্থক—যারা নিজেদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন—রাজধানীর কেন্দ্রস্থল দখল করে নেন। দিল্লির ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে প্রতিধ্বনি হতে থাকে ‘ইনকিলাব’ স্লোগান, যা কাঁপিয়ে দেয় দেশের রাজনীতি ও ক্ষমতার মূল কেন্দ্রকে।
প্রতিবাদী শিক্ষার্থী ও তরুণরা নিট প্রশ্নফাঁস এবং পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনায় সরাসরি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দায়ী করেন এবং তার পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকেন। সরকারের বিলম্বের কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
অবশেষে শনিবার (২৫ জুলাই) ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন এবং সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে সিজেপি তাদের আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেয়।
তবে এই জয় সহজ ছিল না বলে জানান দীপকে। অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করা সত্ত্বেও যারা সিজেপি-র পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি। নিজে টাইফয়েডে আক্রান্ত ও জ্বরে ভুগতে থাকায় গতকাল যন্তর মন্তরে গিয়ে সরাসরি সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘যেসব মানুষ দীর্ঘ ৩৭ দিন ধরে যন্তর মন্তরে অপেক্ষা করেছেন ও লড়েছেন, আমি আপনাদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞ। আপনারা দেশের জন্য যা করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’
একই সঙ্গে সমালোচকদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। কারণ তাদের গঠনমূলক ও ন্যায্য প্রশ্নই আন্দোলনকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে এবং সফল হতে সাহায্য করেছে বলে জানান অভিজিৎ দীপকে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :