
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে একযোগে বদলি করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও আন্দোলন শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা বা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা ছাড়াই কলেজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা সাতজন শিক্ষককে একযোগে বদলি করা হয়েছে। তাদের দাবি, এ ধরনের আকস্মিক সিদ্ধান্ত কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করবে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিশেষ করে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বেশি লক্ষ্য করা গেছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষার মান বজায় রাখতে অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের একযোগে বদলি করায় কলেজের সার্বিক কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দ্রুত বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, “আমাদের শিক্ষাজীবনের স্বার্থে অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল শিক্ষকদের এভাবে একযোগে সরিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে কলেজে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখুক।”
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং বদলির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান দেন।
এদিকে, এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কলেজ ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :