বাউফলে নূরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ও সভাপতি অপসারণ নিয়ে মানববন্ধন | Daily AjKaler Kontho

বাউফলে নূরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ও সভাপতি অপসারণ নিয়ে মানববন্ধন


পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : জুলাই ২৫, ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
বাউফলে নূরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ও সভাপতি অপসারণ নিয়ে মানববন্ধন

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মহসেন উদ্দিন নূরিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের একাধিক অডিও ও নথি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। এর পাশাপাশি নিয়ম অনুসরণ না করে পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে অপসারণের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।

গত (২২জুলাই ২০২৬) বুধবার মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সুজন মৃধা, মো. নূরউদ্দিন, মো. ইমরান মৃধা ও মো. মারুফসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা অবিলম্বে সভাপতিকে পুনর্বহাল এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।

স্থানীয় সূত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় তিন বছরের জন্য মুহাম্মদ আব্দুর রশিদকে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত করে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে বিল-ভাউচার যাচাই-বাছাই করে স্বাক্ষরের নীতি চালু করেন।

অভিযোগ রয়েছে, সভাপতির অগোচরে একজন তৃতীয় শ্রেণি ও তিনজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি গোপনে প্রকাশ করে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। চাকরি দেওয়ার নামে স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তি করে এক প্রার্থীর কাছ থেকে দেড় লাখ এবং আরেক প্রার্থীর কাছ থেকে চার লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসংক্রান্ত বিভিন্ন অডিও ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সভাপতির অনুমোদন ছাড়া এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হলে তিনি রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান, যার জেরে অধ্যক্ষ আব্দুর রহিমের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বিরোধের জেরে অধ্যক্ষ গোপনে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে সভাপতিকে অপসারণের আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত গত ১৫ জুলাইয়ের এক চিঠিতে ভাইস-চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে আব্দুর রশিদকে অপসারণ করে অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য অন্য উপজেলার মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়।

তবে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি গঠনের নীতিমালায় বলা হয়েছে, সভাপতির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তা প্রমাণিত হওয়ার পর কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হবে এবং সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলেই কেবল পদ বাতিল করা যাবে। কিন্তু বরখাস্তকৃত সভাপতি আব্দুর রশিদকে এমন কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতেও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ছিল, যার কারণে তার এমপিও স্থগিত হয়েছিল। বর্তমানে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে।

এছাড়া মোহাম্মদ শাহ আলম মৃধা কর্তৃক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে অধ্যক্ষ এম এ রহিমের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগে মামলা (মামলা নং- ১৯১৮/২৪) চলমান রয়েছে।

সকল অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়েছে। সভাপতি সৎ মানুষ হলেও বয়সের কারণে শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতেন। এ কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে পরিবর্তন করেছে।

এ বিষয়ে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ফাহাদ আহমদ মোমতাজী জানান, অধ্যক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সভাপতি পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগগুলো আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের দাবি, পুরো ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং মাদ্রাসার প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হোক।

আজকালের কন্ঠ/আর বি