ঝিনাইদহে চাঞ্চল্যকর বরুণ হত্যা মামলা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন | Daily AjKaler Kontho

ঝিনাইদহে চাঞ্চল্যকর বরুণ হত্যা মামলা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন


মোঃ সোহাগ আলী, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : জুলাই ২৩, ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন
ঝিনাইদহে চাঞ্চল্যকর বরুণ হত্যা মামলা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

ঝিনাইদহের চাঞ্চল্যকর বরুণ কুমার ঘোষ হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ করা, সাক্ষীকে হুমকি দেওয়া এবং নিহতের সম্পদ দখলের অভিযোগ উঠেছে নিহতেরই বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে। নিহত বরুণের স্ত্রী টুম্পা রানী ঘোষের অভিযোগ, তাঁর ভাসুর অরুণ কুমার ঘোষ ও তাঁর সহযোগীরা মামলার আসামীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে হত্যাকান্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চক্রান্ত করছেন এবং নিহত বরুণের কয়েক কোটি টাকার সম্পদ দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

বুধবার(২২ জুলাই)বিকালে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন টুম্পা রানী ঘোষ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে টুম্পা রানী জানান, ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি তাঁর স্বামী বরুণ কুমার ঘোষ নির্মমভাবে খুন হন। এ সংক্রান্ত মামলায় গত ২২ জুন আদালতে সাক্ষ্য গ্রহনের দিন ধার্য ছিল। ওইদিন তিনি ঢাকা হাইকোর্ট থেকে দুজন আইনজীবী নিয়ে সাক্ষ্য দিতে আদালতে গেলে তাঁর ভাসুর অরুণ কুমার ঘোষ, সহযোগী তনুপ ঘোষসহ কয়েকজন তাঁকে ও তাঁর ভাইকে জজ কোর্টের অভ্যন্তরেই প্রান নাশের হুমকি দেয়। ফলে সেদিন তিনি আদালতে সাক্ষ্য দিতে পারেননি। বিচারালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই এই ঘটনার সত্যতা পাওয়া যাবে বলে তিনি দাবি করেন।টুম্পা রানী আরও অভিযোগ করেন,স্বামী হত্যার পর ৬ মাস পার হতে না হতেই আমার ভাসুর আমার নামে মিথ্যা দেওয়ানি মামলা ঠুকে দেন। সেখানে দাবি করা হয়, আমি জমি বিক্রি করে দিচ্ছি। অথচ বাস্তবতা হলো, আমার ভাসুর নিজেই ১৬টি দলিলের মাধ্যমে বরুণের ১৪৩.৫০ একর জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। তিনি আইনজীবীদের চেম্বারে বসে হত্যা মামলার আসামীদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেন। আসামীদের সাথে তাঁর কিসের বৈঠক? কেন আমাকে সাক্ষ্য দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে? এসব কারণে এখন আমার প্রবল সন্দেহ হচ্ছে আমার স্বামী বরুণ হত্যার পেছনে খোদ তাঁর ভাই অরুণ ঘোষের সরাসরি হাত বা সম্পৃক্ততা রয়েছে।রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারের বিষয়ে টুম্পা বলেন, অরুণ কুমার ঘোষ দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর হয়ে নির্বাচনী কাজ করেছেন এবং দলকে অর্থ যোগান দিতেন। অথচ ২০২৪ সালের আগস্ট পরবর্তী সময়ে তিনি নিজেকে চরমপন্থী ভাবধারার প্রভাব থেকে বেরিয়ে বিএনপির লোক পরিচয় দিচ্ছেন। জেলা বিএনপির সভাপতির নাম ভাঙিয়ে তিনি এখন আমাদের সমস্ত জমি,দোকান ও গাছপালা আত্মসাৎ করার পাঁয়তারা করছেন এবং আমাদের প্রাননাশের পরিকল্পনা করছেন। তাঁর কাছে অবৈধ অস্ত্রও রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, প্রানভয় ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি ভাসুর ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১২৩৬, তারিখ: ১৯/০৭/২০২৬) দায়ের করেছেন। বর্তমানে তিনি তাঁর নাবালিকা কন্যা সন্তানকে নিয়ে হামদহ ঘোষপাড়ার ভিটা ছেড়ে যশোরে বাপের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে টুম্পা রানী ঘোষ স্বামীর সম্পদ ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেরনের সময় টুম্পা রানীর পিতা সুভাষ ঘোষ ও ভাই আকাশ ঘোষ উপস্থিত ছিলেন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি