জীবননগরের মরিয়ম ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সেই ফটিককে মৃত্যুদণ্ড | Daily AjKaler Kontho

জীবননগরের মরিয়ম ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সেই ফটিককে মৃত্যুদণ্ড


পিয়াস সরকার, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : জুলাই ২১, ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন
জীবননগরের মরিয়ম ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সেই ফটিককে মৃত্যুদণ্ড

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের ছাত্রী মরিয়ম খাতুন (১০) ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে মৃত্যুদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার (২০ জুলাই) চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোক্তাগীর আলম এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর কঠোর পুলিশ প্রহরায় ফটিককে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, ডিএনএ রিপোর্টসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে এ রায় দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইকবাল হোসেনের দুই মেয়ে মরিয়ম খাতুন (১০) ও আছিয়া খাতুন (৮), প্রতিবেশী শিশু হুযাইফা (৭) ও সিনহা খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় হাড়িভাঙ্গা মাঠে শাক তুলতে যায়। দুপুর ১২টার দিকে আছিয়া ও তার সঙ্গীরা বাড়ি ফিরে তাদের মাকে জানায়, মাঠে শাক তোলার সময় এক ব্যক্তি রাস্তার পাশে ভ্যান রেখে তাদের কাছে আসে। সে মরিয়মকে শাক তুলে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পাশের ভুট্টাখেতে নিয়ে যায় এবং অন্য শিশুদের সেখানে অপেক্ষা করতে বলে। দীর্ঘ সময় পর লোকটি একা ফিরে এলে মরিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে সে বলে, মরিয়ম পরে আসবে। এতে সন্দেহ হলে মরিয়মের মা ও স্থানীয় লোকজন মাঠে গিয়ে আলী হোসেনের ভুট্টাখেত থেকে মরিয়মের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে জীবননগর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর জীবননগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের আবু তাহের মোল্লার ছেলে আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে (২৯) একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

মামলা চলাকালে আসামি আবুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া তার ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টেও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে।

গত বুধবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আজ সোমবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। চার্জশিট, ডিএনএ রিপোর্ট, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য উপস্থাপিত তথ্য পর্যালোচনা করে আদালত এ রায় প্রদান করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট শাহজাহান মুকুল বলেন, আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করেছিলাম, আদালত তা মঞ্জুর করেছেন। এ রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে।

এদিলে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী হিসেবে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট ওহিদুজ্জামান মুকুল।

আজকালের কন্ঠ/আর বি