
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুস সাদাত দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
রবিবার (১৯ জুলাই) রাত ৮টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে তিনি বিনয়ের সঙ্গে তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।
এ সময় উপস্থিত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশে অধ্যাপক ড. নাজমুস সাদাত বলেন, “আমি এখন ফুলেল শুভেচ্ছা নিতে আগ্রহী নই। আগামী চার বছর আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার পর, আজ যেভাবে আপনারা আমাকে গেট থেকে নিয়ে এসেছেন, ঠিক সেভাবেই ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে এবং সবাইকে আবেগাপ্লুত করে বিদায় জানালে সেটিই হবে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, এজন্য আমি আপনাদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। তবে আমি ফুলেল শুভেচ্ছা সেদিনই গ্রহণ করব, যেদিন আমি আমার দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে সক্ষম হব।”
দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ থেকে বিরত থাকার এই বার্তা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের মধ্যে দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা এবং কর্মের মাধ্যমে আস্থা অর্জনের প্রত্যয়ের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর সবার সহযোগিতা কামনা করে নবনিযুক্ত উপাচার্য আরো বলেন, “আমি দুর্নীতির সঙ্গে কখনো জড়িত ছিলাম না। ভবিষ্যতেও থাকব না। তবে কেউ দুর্নীতি করলে তাকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় আসতে হবে।”
এর আগে একই দিন বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে গোবিপ্রবির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১ (সংশোধিত-২০২৫)-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাতকে গোবিপ্রবির উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসরের তারিখ—যেটি আগে হবে, ততদিন তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাসহ বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। প্রয়োজনবোধে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর যে কোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :