নোয়াখালীর হাসপাতালে লিফট দুর্ঘটনায় নারীর মৃত্যু | Daily AjKaler Kontho

নোয়াখালীর হাসপাতালে লিফট দুর্ঘটনায় নারীর মৃত্যু


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১, ২০২১, ১২:০৮ অপরাহ্ন
নোয়াখালীর হাসপাতালে লিফট দুর্ঘটনায় নারীর মৃত্যু

নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর জি-৮ গ্রামীণ জেনারেল প্রাইভেট লিমিটেড হাসপাতালের ক্রটিপূর্ণ লিফটের বক্সে পড়ে জহুরা বেগম (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দুর্ঘটনা বললেও রোগীর স্বজনদের বক্তব্য শুনে বিষয়টি খতিয়ে দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলছে পুলিশ।

রবিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের চতুর্থ তলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জহুরা বেগম লক্ষীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম চন্দ্রগঞ্জের রামকৃষ্ণপুর গ্রাামের খুরশিদ আলমের স্ত্রী।
নিহতের স্বজনরা বলছেন, গত ২৯ জানুয়ারি জহুরার শ্বশুর আনোয়ারুল ইসলাম সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হলে ওই দিন রাতে তাকে মাইজদী জি-৮ গ্রাামীণ জেনারেল হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৪১৭ নম্বর কক্ষে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর থেকে হাসপাতালটির লিফট চতুর্থ তলায় কাজ করছিল না। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানালেও তারা কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। দুপুরে অসুস্থ শ্বশুরকে দেখতে ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন জহুরা। সন্ধ্যায় শ্বশুরকে দেখে ছেলেকে নিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য হাসপাতালের নিচে নামতে লিফটের কাছে গিয়ে লিফটের বাটনে চাপ দেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যে দরজা খুললেও লিফটি পাঁচ তলায় চলে যায়, কিন্তু চার তলায় লিফট আছে ভেবে তিনি ভেতরে পা দিতেই ছিটকে নিচে পড়ে যান। হাসপাতালের লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে জহুরাকে উদ্ধার করে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও ত্রæটিপূর্ণ লিফটের কারণেই জহুরার মৃত্যু হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
হাসপাতালটির চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক মানিক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চতুর্থ তলায় লিফটি কাজ করছিল না। এটি একটি দুর্ঘটনা। অনাকাঙ্খিত এ মৃত্যুর জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ মৃত্যুর বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সাথে ওই লিফটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এখনো পর্যন্ত অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।