দেশীয় ফলের রঙে সাংবাদিক সমিতির মিলনমেলা | Daily AjKaler Kontho

দেশীয় ফলের রঙে সাংবাদিক সমিতির মিলনমেলা


নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশের সময় : জুলাই ১০, ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন
দেশীয় ফলের রঙে সাংবাদিক সমিতির মিলনমেলা

কোনো প্রতিষ্ঠানের বয়স শুধু সময়ের হিসাব নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অর্জন, সম্পর্ক, স্মৃতি এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জাককানইবিসাস) এক যুগ পূর্তির আয়োজনে সেই গল্পই যেন নতুন করে ধরা দিল মৌসুমি ফলের বর্ণিল সমারোহে। ফলের রঙ, হাসিমুখ আর আন্তরিক মিলনমেলায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সৃষ্টি হয় এক ভিন্ন আবহ।

বছরব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত ফল উৎসবে দেশীয় ঐতিহ্য ও মৌসুমি ফলকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। আম, কাঁঠাল, আনারস, কলা, আঙুর, ড্রাগন ফলসহ নানা ধরনের ফলের সমাহারে সাজানো হয় আয়োজনস্থল। প্রকৃতির রঙিন উপহারকে কেন্দ্র করে এই আয়োজন যেন শুধু আপ্যায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং সুস্থ জীবনযাপন, দেশীয় ফলের গুরুত্ব এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক অনন্য বার্তাও বহন করেছে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সাংবাদিকরা একসঙ্গে অংশ নিয়ে উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন পরিবহন প্রশাসক ও সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী, প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান, জনসংযোগ দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক এস. এম. হাফিজুর রহমান এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম কাজল। তাঁদের উপস্থিতি আয়োজনে বাড়তি মাত্রা যোগ করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে এই উৎসবে যোগ দেয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির প্রতিনিধিদলও। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ উৎসবকে পরিণত করে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সৌহার্দ্য ও পেশাগত বন্ধনের এক উজ্জ্বল উদাহরণে। মতবিনিময়, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং অনানুষ্ঠানিক আড্ডায় ফুটে ওঠে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের চিত্র।

জাককানইবিসাসের সভাপতি জান্নাতি বেগমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ সাদের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা সাংবাদিক সমিতির এক যুগের পথচলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পাশাপাশি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ও মানবিক পরিবেশ গড়ে তুলতেও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এমন আয়োজন সেই চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইতিবাচক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে সহায়ক হয়।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, কার্যনির্বাহী সদস্য এবং সাধারণ সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ফল পরিবেশন, সৌজন্য বিনিময় এবং একসঙ্গে সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে দিনটি পরিণত হয় স্মরণীয় এক মিলনোৎসবে।

এক যুগের যাত্রা শেষে নতুন অধ্যায়ে পা রাখা জাককানইবিসাসের এই ফল উৎসব ছিল কেবল একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়, এটি ছিল ঐতিহ্য, সম্প্রীতি, পেশাদারিত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক প্রতীকী প্রকাশ। রঙিন ফলের মতোই বৈচিত্র্যময় এই আয়োজন অংশগ্রহণকারীদের মনে রেখে গেল এক উষ্ণ স্মৃতি, আর জানিয়ে দিল-একসঙ্গে পথচলার সৌন্দর্যই একটি সংগঠনের সবচেয়ে বড় শক্তি।