
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ও রেল যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়ায় পিরোজপুর জেলায় আনন্দের জোয়ার বইছে। জেলার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
পিরোজপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল জেলায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা। নির্বাচনের আগে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী তার নির্বাচনী ইশতেহারে এ দুটি বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এরও আগে তিনি এ দুটি দাবি নিয়ে মাঠে ময়দানে সরব ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুসের সাথে সাক্ষাৎ করেও মাসুদ সাঈদী পিরোজপুরের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পিরোজপুরকে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষনার দাবি জানিয়েছিলেন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি জাতীয় সংসদেও বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং ৭১ বিধিতে জরুরী জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে পিরোজপুরকে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষনা ও ঢাকা থেকে রেল লাইন পিরোজপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথেও এ দাবি নিয়ে ব্যাক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেন।
অবশেষে জনগনের দাবির প্রেক্ষিতে গত ১৪ জুন সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত একনেকের সভায় বিষয়টি উপস্থাপিত হয় এবং তা অনুমোদন করা হয়। একনেক সভায় অর্থনৈতিক অঞ্চল ও রেল যোগাযোগ প্রকল্পের অনুমোদনের পর এমপি মাসুদ সাঈদী পিরেজপুরের সর্বস্তরের জনগনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, এ দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পিরোজপুরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, “আমি নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, ইনশাআল্লাহ ধাপে ধাপে সবগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও রেল যোগাযোগ ছিল অন্যতম। অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, এবং মৎস্য, কৃষি ও সামুদ্রিক সম্পদ প্রক্রিয়াজাত করণ শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। স্থানীয় যুবসমাজ, বিশেষ করে নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এই অঞ্চলে কারখানা স্থাপনে উৎসাহিত হবে, যা সামগ্রিক মূলধন প্রবাহ বাড়াবে।”
তিনি বলেন, “রেল যোগাযোগ চালু হলে শিল্পায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং রেল যোগাযোগ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে এবং জেলার সামগ্রিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।”
পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খাঁন বলেন, “অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ পিরোজপুরের মতো দীর্ঘদিনের অবহেলিত জেলাকে বদলে দিতে পারে। একটি গণতান্ত্রিক সরকার আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিলে দেশের সামগ্রিক চিত্র পরিবর্তন করা সম্ভব। এ মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল ইসলাম শামীম বলেন, “দক্ষিণাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া একটি জেলা পিরোজপুর,অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেনি, ফলে অর্থনৈতিক ভাবেও জেলা দীর্ঘদিন পিছিয়ে রয়েছে। পিরোজপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি অর্থনৈতিক জোন ও রেল যোগাযোগ স্থাপন। যা পিরোজপুর-১ আসনের এমপি মাসুদ সাঈদীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম বিষয় ছিল। তিনি সংসদেও বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। একনেক সভায় এ দুটি প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ায় জেলার উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং জেলার অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে। একই সঙ্গে রেল যোগাযোগ চালু হলে পণ্য পরিবহন সহজ হবে, ব্যবসার খরচ কমবে এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে পিরোজপুরের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।
পিরোজপুরবাসী আশা করছেন, অনুমোদিত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনার অবসান ঘটবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় পিরোজপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :