ডেপুটি স্পিকারকে সতর্ক করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পিসিসিপির স্মারকলিপি | Daily AjKaler Kontho

ডেপুটি স্পিকারকে সতর্ক করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পিসিসিপির স্মারকলিপি


রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : জুন ২১, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ন
ডেপুটি স্পিকারকে সতর্ক করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পিসিসিপির স্মারকলিপি

জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙ্গামাটি জেলা শাখা।

রোববার (২১ জুন) দুপুরে পিসিসিপির একটি প্রতিনিধি দল রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ স্মারকলিপি পেশ করে। একই সঙ্গে এর অনুলিপি জাতীয় সংসদের স্পিকার, চিফ হুইপ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

স্মারকলিপিটি রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমিনের হাতে তুলে দেন সংগঠনের নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিসিসিপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম, রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজ, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক রিমন, সদস্য আশরাফুল ইসলাম, মো. আব্দুর রাজ্জাক, মো. অন্তরসহ অন্যান্য নেতাকর্মী।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ নিজেকে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ ও ‘সমতলের নৃ-গোষ্ঠী’র প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন। তবে অধিবেশনে সভাপতিত্বকালে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহার করেন, যা সংগঠনের মতে সংবিধানের ভাষা ও রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

পিসিসিপি নেতৃবৃন্দ স্মারকলিপিতে দাবি করেন, বাংলাদেশের সংবিধানে ‘আদিবাসী’ শব্দের উল্লেখ নেই। সংবিধানের ২৩(ক) অনুচ্ছেদে ‘উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি নির্দেশনায়ও এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, সংসদে ব্যবহৃত এ ধরনের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক হতে পারে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পিসিসিপি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দুটি দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলো হলো- জাতীয় সংসদের কার্যবিবরণী থেকে ডেপুটি স্পিকারের উক্ত বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন।

স্মারকলিপিতে সংগঠনের নেতারা দেশের সার্বভৌমত্ব, সংবিধান ও জাতীয় সংহতি রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

আজকালের কন্ঠ/আর বি