
লক্ষ্মীপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় পাইপলাইনের গ্যাস লিকেজের ঘটনা যেন নিয়মিত আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনো রাস্তার ফাটল দিয়ে, আবার কখনো মাটির নিচ থেকে বের হওয়া গ্যাসে আগুন জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। বারবার এমন ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে নগরবাসীর মধ্যে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২০ জুন) শহরের বাগবাড়ি এলাকার করিম টাওয়ারের সামনে সড়কের একটি অংশে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তার ফাটল দিয়ে গ্যাস বের হয়ে আগুন জ্বলছিল। খবরটি দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন এবং এলাকাজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এ অবস্থায় সামান্য অসাবধানতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও লক্ষ্মীপুর শহরের বিভিন্ন সড়ক ও এলাকায় একইভাবে পাইপলাইনের গ্যাস লিকেজ হয়ে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। কিন্তু এসব ঘটনার পরও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে দিন দিন জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শহরের অধিকাংশ গ্যাস লাইন অনেক বছর আগে স্থাপন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন স্থানে পাইপ ক্ষয়প্রাপ্ত ও দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাস্তা সম্প্রসারণ, খোঁড়াখুঁড়ি এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক স্থানে গ্যাস লিকেজের ঝুঁকি বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নগরবাসীর অভিযোগ, বারবার গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটলেও ঝুঁকিপূর্ণ লাইন শনাক্ত ও প্রতিস্থাপনে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এতে প্রতিদিনই আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে শহরবাসীকে।
সচেতন মহলের মতে, গ্যাস লিকেজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়। মাটির নিচে জমে থাকা গ্যাস যেকোনো সময় আগুন বা বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গের সংস্পর্শে এসে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটাতে পারে। তাই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কারিগরি পরীক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ লাইন সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এ বিষয়ে বাকাবাদ গ্যাস কোম্পানির লক্ষ্মীপুর অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বেগমগঞ্জ-লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার রাস্তা খনন কার্যক্রমের সময় অনেক ক্ষেত্রে গ্যাস লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটে থাকে। এ ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
তারা আরও জানান, গ্যাস লাইন লিকেজের কারণে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডসহ ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে, যা জানমালের ব্যাপক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে এ ধরনের ঘটনা দেখামাত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসকে দ্রুত অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, অনেক সময় উৎসুক জনতা গ্যাস লিকেজ আছে কি না তা পরীক্ষা করতে নিজেরাই ম্যাচ জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং ব্যক্তিও মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সবাইকে সচেতন থাকার এবং দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই লক্ষ্মীপুর শহরের পুরো গ্যাস নেটওয়ার্কের অবস্থা যাচাই করে ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো পাইপলাইন দ্রুত প্রতিস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রশ্ন—আর কত ঘটনা ঘটলে নড়েচড়ে বসবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ?
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :