মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অনড় ফাঁড়ি ইনচার্জ আতিক | Daily AjKaler Kontho

মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অনড় ফাঁড়ি ইনচার্জ আতিক


জামাল খান, ময়মনসিংহ ব্যুরো চীফ প্রকাশের সময় : জুন ২০, ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন
মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অনড় ফাঁড়ি ইনচার্জ আতিক

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার অধীনস্থ ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এটিআই আতিকের বিরুদ্ধে সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। এসব সংবাদে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।

এক লিখিত বিবৃতিতে ফাঁড়ি ইনচার্জ এটিআই আতিক বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি মাদক, সন্ত্রাস, চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ি এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করায় স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধী চক্রের স্বার্থে আঘাত লেগেছে। এরই প্রতিক্রিয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, “আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করছি। মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্নভাবে আমাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি কিছু সংবাদমাধ্যমে যে অভিযোগগুলো প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান কঠোর অবস্থানের কারণে কয়েকটি প্রভাবশালী মাদক সিন্ডিকেটের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ফলে ওই চক্রের সদস্যরা নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে বিভিন্ন অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ফাঁড়ি ইনচার্জ আতিক দাবি করেন, মাদক ব্যবসায়ীদের একটি অংশ এবং তাদের সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করে কিছু সংবাদকর্মীকে ব্যবহার করছে।

তিনি আরও বলেন, “যখনই কোনো বড় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়, তখন বিভিন্ন মহল থেকে ফোন করে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়। অনেক সময় সুপারিশ কিংবা অনুরোধের মাধ্যমে অভিযানে প্রভাব বিস্তারেরও চেষ্টা হয়। কিন্তু মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনো ধরনের আপসের প্রশ্নই আসে না। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এটিআই আতিক সংবাদকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য যাচাই না করে কোনো সংবাদ প্রকাশ করা হলে তা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তিনি সংবাদ প্রকাশের আগে সঠিক তথ্য যাচাই এবং পেশাগত নীতিমালা অনুসরণের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। তাই অপরাধীদের স্বার্থরক্ষার হাতিয়ার না হয়ে সত্য উদঘাটনে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। হলুদ সাংবাদিকতা কখনোই সমাজের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।”

বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে হলে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ফাঁড়ি ইনচার্জ আতিক বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করা। এ লক্ষ্যে সাধারণ জনগণ, সুশীল সমাজ, জনপ্রতিনিধি এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জনগণের পাশে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”

বিবৃতির শেষাংশে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালিয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ সদস্যদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং মাদকবিরোধী অভিযানকে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। আইন অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাবে।”

আজকালের কন্ঠ/আর বি