রাত জেগে বিশ্বকাপ দেখছেন, যেভাবে দিনভর নিজেকে ঝড়ঝড়ে রাখবেন | Daily AjKaler Kontho

রাত জেগে বিশ্বকাপ দেখছেন, যেভাবে দিনভর নিজেকে ঝড়ঝড়ে রাখবেন


লাইফস্টাইল ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৯, ২০২৬, ১২:২৪ অপরাহ্ন
রাত জেগে বিশ্বকাপ দেখছেন, যেভাবে দিনভর নিজেকে ঝড়ঝড়ে রাখবেন

ফুটবল বিশ্বকাপের ধামাকায় কাঁপছে পুরো বিশ্ব। ৩৯ বছর বয়সে লিওনেল মেসির অতিমানবীয় হ্যাটট্রিক হোক কিংবা মরক্কো-ব্রাজিলের হাইভোল্টেজ টক্কর— রাত জেগে টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখা এখন কোটি কোটি ক্রীড়াপ্রেমীর নিত্যকার রুটিন। কিন্তু প্রিয় দলের খেলা দেখার এই টান টান উত্তেজনার আড়ালে আপনার শরীরী দেওয়াল যে নিঃশব্দে ভেঙে পড়ছে, সেদিকে খেয়াল রাখছেন কি?

খেলা দেখা অবশ্যই নিখাদ বিনোদন এবং এটি শরীরে ‘হ্যাপি হরমোন’-এর ক্ষরণ বাড়িয়ে তোলে। কিন্তু তা যদি আপনার প্রতিদিনের ঘুম কেড়ে নেয়, তবে আখেরে ক্ষতি আপনারই। চলুন জানা যাক, এ বিষয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলছে?

বয়স অনুযায়ী কার কতটা ঘুম দরকার, তার একটি নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক মাপকাঠি রয়েছে। বিশেষ করে বাড়ির শিশু-কিশোরদের খেলা দেখার উৎসাহ বেশি থাকলেও তাদের ঘুমের দিকে কড়া নজর রাখা প্রয়োজন—

তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সের শিশুর ১০-১৩ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। আবার ছয় থেকে ১২ বছর যাদের, তাদের ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। আর ১৩-১৯ বছর কৈশোর বয়স যাদের, তাদের ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। আবার প্রাপ্তবয়স্ক, যারা ২০ বছরের ঊধ্বে, তাদের সাত থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

দিনের পর দিন প্রয়োজনের চেয়ে কম ঘুমালে কেবল যে পরের দিন ক্লান্ত লাগবে বা হাই উঠবে, তা নয়। এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। এই যেমন—

ঘুমের অভাবে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যায়। ফলে রাস্তা পারাপার বা গাড়ি চালানোর সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। মানসিক অস্থিরতা ও মেজাজ বিগড়ে যাওয়া। মনোযোগের অভাব ঘটে, সহজ কাজও কঠিন মনে হয়। খিটখিটে মেজাজের কারণে নষ্ট হয় ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্ক। আর পরোক্ষভাবে এ অনিয়ম উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের মতো মারণ রোগকে ত্বরান্বিত করে। তা ছাড়া রাত জাগলেই বাড়ে ভাজাভুজি বা প্রসেসড স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা, যা মোটা হওয়ার মূল কারণ।

এটা ঠিক, খেলাধুলো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। তাই খেলা বন্ধ করার কোনো প্রয়োজন নেই, শুধু একটু স্মার্ট প্ল্যানিং প্রয়োজন। সব ম্যাচ লাইভ দেখার প্রয়োজন নেই। শুধু প্রিয় দল বা ‘হাইভোল্টেজ’ ম্যাচগুলো লাইভ দেখুন। বাকিগুলোর জন্য পরের দিন সকালে হাইলাইটস বা রেকর্ডেড টেলিকাস্টের ওপর ভরসা রাখুন। আর কোন দিন কোন খেলা দেখবেন তা আগভাগে ঠিক করে রাখুন। খেলার আগে বা পরে ছোট ছোট ঘুমের কোটা পূরণ করে নিন।

এ ছাড়া অনেক সময় শতচেষ্টা করলেও ঘুম আসে না। সে ক্ষেত্রে চোখ বুজে গা এলিয়ে বিছানায় শুয়ে থাকুন। এটিও শরীরকে স্বস্তি দেয়। আর রাত জেগে খেলা দেখার সময় চিপস বা কোল্ড ড্রিংকসের বদলে ড্রাই ফ্রুটস, ফল বা স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও অনেকের ঘুম আসতে চায় না। এর বৈজ্ঞানিক কারণ হলো উত্তেজনার। ফলে শরীরে ‘অ্যাড্রেনালিন’ হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যাওয়া। তাই খেলা শেষের সঙ্গে সঙ্গেই মেনে চলুন এ নিয়মগুলো—

খেলা শেষ হওয়া মাত্রই ফেসবুক বা এক্স-এ পোস্ট বা কমেন্ট করা বন্ধ করুন। সামাজিক মাধ্যমে নীল আলো ঘুম আসার প্রক্রিয়াকে আরও বিলম্বিত করে।

আর বন্ধুদের সঙ্গে ম্যাচ নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চ্যাট বা বিশ্লেষণ জমিয়ে রাখুন পরের দিনের টিফিন টাইম বা অবসরের জন্য। খেলা শেষ হতেই ঘরের আলো নিভিয়ে দিন। এসি বা ফ্যানের তাপমাত্রা আরামদায়ক স্তরে আনুন, যা আপনার শরীরকে জানান দেবে যে, এবার বিশ্রামের সময় হয়েছে।

মাঠের লড়াই শেষ পর্যন্ত একটা খেলাই। কিন্তু আপনার শরীর আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধক্ষেত্র। তাই খেলাও হোক, আবার ঘুমও হোক ষোলো আনা!