একাডেমির ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ, বিক্ষোভ-ভাঙচুরে উত্তপ্ত রামগঞ্জ | Daily AjKaler Kontho

একাডেমির ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ, বিক্ষোভ-ভাঙচুরে উত্তপ্ত রামগঞ্জ


জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : জুন ১৭, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ন
একাডেমির ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ, বিক্ষোভ-ভাঙচুরে উত্তপ্ত রামগঞ্জ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্রাবাস থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান (১৪)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

নিহত মেহেদী হাসান উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের জিয়া উদ্দিন জিয়ার ছেলে এবং ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে একাডেমির ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মেহেদীর মরদেহ দেখতে পান সহপাঠীরা। পরে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।

শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজন, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং প্রতিষ্ঠানের কিছু স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়। এ সময় পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনাটি রহস্যজনক। তারা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, মেহেদী স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিল এবং আত্মহত্যার মতো কোনো আচরণ তার মধ্যে দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, শিক্ষার্থীকে প্রথমে চাটখিল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত আমাদের থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাটখিল থানার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রামগঞ্জের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি নিহত শিক্ষার্থীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং উপস্থিত জনতাকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

সংসদ সদস্যের আশ্বাসের পর স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হয় এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি