ঐতিহ্যবাহী মৎস্য কেন্দ্র আজ অবহেলায়, সুফল কোথায়? প্রশ্ন জনমনে | Daily AjKaler Kontho

ঐতিহ্যবাহী মৎস্য কেন্দ্র আজ অবহেলায়, সুফল কোথায়? প্রশ্ন জনমনে


জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : জুন ১৫, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ন
ঐতিহ্যবাহী মৎস্য কেন্দ্র আজ অবহেলায়, সুফল কোথায়? প্রশ্ন জনমনে

একসময় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম সেরা মৎস্য হ্যাচারি হিসেবে পরিচিত লক্ষ্মীপুরের রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এখন চরম অবহেলার শিকার। জনবল সংকট, জরাজীর্ণ অবকাঠামো, অকার্যকর যন্ত্রপাতি এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো দৃশ্যমান প্রতিফলন দেখা যায়নি।

১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি ১৯৮২ সালে দেশে প্রথম কৃত্রিম মৎস্য প্রজনন কার্যক্রম শুরু করে। ৫৪ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এ প্রতিষ্ঠানটি একসময় দেশের বৃহত্তম সরকারি মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এখান থেকে উৎপাদিত রেণু ও পোনা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মৎস্যচাষিদের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত।

কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে নেমে এসেছে স্থবিরতা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত ৮১টি পদের মধ্যে বর্তমানে ৫৮টি পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব পদে নিয়োগ না হওয়ায় সীমিত জনবল দিয়েই উৎপাদন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম।

স্থানীয় মৎস্যচাষি ও সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিবার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সফরের সময় কেন্দ্রটির আধুনিকায়ন, জনবল নিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধির নানা আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু সফর শেষে সেসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হয় না। বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যার মধ্যেই পড়ে আছে প্রতিষ্ঠানটি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কেন্দ্রের একাধিক ভবন ও স্থাপনা দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যবহৃত অধিকাংশ যন্ত্রপাতি পুরোনো ও অকার্যকর। আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হলে দক্ষিণাঞ্চলে মাছের পোনা উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতো। এতে হাজারো মৎস্যচাষি উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেত। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও জনবল সংকটের কারণে সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের প্রশ্ন—প্রতিমন্ত্রীর সফরের পরও যদি জনবল সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও উৎপাদন সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে সেই সফরের বাস্তব সুফল কোথায়?

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত শূন্য পদ পূরণ, অবকাঠামো সংস্কার, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে কেন্দ্রটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। অন্যথায় দেশের ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠান আরও গভীর সংকটে নিমজ্জিত হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সময়োপযোগী উদ্যোগ ও কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে রায়পুরের এই সরকারি মৎস্য হ্যাচারি আবারও তার হারানো গৌরব ফিরে পেতে পারে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি