সিআর/জিআর মামলা, মোবাইল কোর্টের সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্তসহ ৩ আসামি গ্রেপ্তার | Daily AjKaler Kontho

সিআর/জিআর মামলা, মোবাইল কোর্টের সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্তসহ ৩ আসামি গ্রেপ্তার


জামাল খান, ময়মনসিংহ ব্যুরো চিফ প্রকাশের সময় : জুন ১২, ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন
সিআর/জিআর মামলা, মোবাইল কোর্টের সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্তসহ ৩ আসামি গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সিআর/জিআর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও মোবাইল কোর্টের সাজাপ্রাপ্তসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ধোবাউড়া থানা পুলিশ। পুলিশের এ অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ রাত আনুমানিক ১১টা ০৫ মিনিটে ধোবাউড়া থানার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ধোবাউড়া থানার এসআই (নিরস্ত্র) হাদিস উদ্দিন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন এএসআই (নিরস্ত্র) টিপু সুলতান, এএসআই (নিরস্ত্র) সাদ্দাম হোসেন শাকিল এবং সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা।

অভিযান চলাকালে ধোবাউড়া থানাধীন চারিয়াকান্দা এলাকা থেকে সিআর/জিআর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি জালাল উদ্দিন (৬০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে এবং চারিয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে জারি থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার লক্ষ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

এদিকে পৃথক অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত আরও এক আসামি শাহিন ওরফে শাহিন মিয়া (২২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি হারুন মিয়ার ছেলে এবং চন্দ্রকোনা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধেও বিজ্ঞ আদালতের জারি করা পরোয়ানা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অন্যদিকে, বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তিকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এ ঘটনায় ধোবাউড়া মামলা নং-৩২/২৬, তারিখ ১১ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পরবর্তীতে জেলা কারাগার, ময়মনসিংহে প্রেরণ করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ১১ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

ধোবাউড়া থানা পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, পুলিশের নিয়মিত বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকলে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষ আরও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ধোবাউড়া থানা পুলিশের এমন তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকাবাসী।