
সাতক্ষীরায় প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারে রিচার্জ জটিলতার কারণে সাতক্ষীরায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রিচার্জ করতে না পারায় বাধ্য হয়ে শত শত গ্রাহককে সরাসরি কার্যালয়ে এসে বিদ্যুৎ রিচার্জ করতে হচ্ছে।
রোববার ও সোমবার সকালে সাতক্ষীরা শহরের পাকাপোল এলাকায় অবস্থিত ওজোপাডিকোর গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কার্যালয়ের সামনে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী, দিনমজুর ও বয়স্ক গ্রাহকেরা।
কেউ প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করতে এসেছেন, আবার কেউ টোকেন নম্বর সংগ্রহের জন্য অপেক্ষা করছেন। অনেককে কয়েক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রায় এক মাস ধরে বিকাশ, রকেট ও নগদের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটারে টাকা রিচার্জ করতে নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে। ফলে বিকল্প উপায় না থাকায় সরাসরি ওজোপাডিকো কার্যালয়ে এসে রিচার্জ করতে হচ্ছে। অনেকের মিটারে ব্যালেন্স শেষ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দিনমজুর মিজানুর রহমান বলেন, “সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কখন বিদ্যুৎ রিচার্জ করব, আর কখন কাজে যাব বুঝতে পারছি না। মানুষের দীর্ঘ লাইন, অথচ কাউন্টার খুবই সীমিত। এই গরমে দাঁড়িয়ে থাকা কষ্টকর হয়ে উঠেছে।”
গ্রাহক হাফিজুর রহমান বলেন, “সকাল থেকে অপেক্ষা করছি। বিভিন্ন কাজে যাওয়ার কথা থাকলেও যেতে পারছি না। এক থেকে দেড় ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ছোট একটি ভুল হলেও আবার নতুন করে ঝামেলায় পড়তে হয়।” শারীরিকভাবে অসুস্থ গ্রাহক আশিকুর রহমান বলেন, “পায়ে সমস্যা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে কষ্ট হচ্ছে। তারপরও বাধ্য হয়ে অফিসে আসতে হয়েছে।” সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, “বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। সকাল ৯টার দিকে এসেছি, এসে দেখি দীর্ঘ সিরিয়াল। কাউন্টার বাড়ানো হলে ভোগান্তি কিছুটা কমবে।” সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক গ্রাহক রোদ ও গরম উপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ আরও বেশি। কেউ কেউ দ্রুত রিচার্জ করতে না পারায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
একাধিক গ্রাহক জানান, সেবা সহজ করার লক্ষ্যে প্রিপেইড মিটার চালু করা হলেও বর্তমানে সেটিই নতুন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিচার্জ জটিলতা, মিটার লক হয়ে যাওয়া, ব্যাটারির সমস্যা ও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে প্রায়ই গ্রাহকদের সেবা কেন্দ্রে ছুটতে হচ্ছে। ওজোপাডিকো সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের আওতায় প্রায় ৪৫ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে বর্তমানে গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ (ওজোপাডিকো) বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মতিয়ার রহমান বলেন, “গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে দুটি কাউন্টার চালু করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও একটি কাউন্টার বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ব্যাংকের মাধ্যমেও রিচার্জ ও বিল পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে যে কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছে, তা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।” তবে দ্রুত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন রিচার্জ সুবিধা চালু না হলে এবং সেবা কাউন্টার বৃদ্ধি না করা হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন গ্রাহকেরা। তাঁদের দাবি, আধুনিক সেবার নামে নতুন দুর্ভোগ নয়, বরং সহজ, নিরবচ্ছিন্ন ও গ্রাহকবান্ধব বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিত করুক কর্তৃপক্ষ।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :