
কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার নিমসার আমবাজার এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের পেট্রোল টিমের ওপর হামলা, দুই পুলিশ সদস্যকে আহত করা এবং পুলিশের সরকারি পিকআপ ভাঙচুরের ঘটনায় ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কে উল্টোপথে ছোট যানবাহন চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় গত ৯ জুন ২০২৬ তারিখে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানা পুলিশের একটি টিম কুমিল্লা-ঢাকা মহাসড়কে উল্টোপথে চলাচলকারী কয়েকটি অবৈধ থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক ও অটোরিকশা) আটক করে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
এদিন বেলা আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে একটি অটোট্রলি উল্টোপথে এসে নিমসার আমবাজার এলাকায় ঢাকামুখী লেনে যানজটের সৃষ্টি করে। দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা চালকের নাম-ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি তা দিতে ব্যর্থ হন। পরে অটোট্রলিটি জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটককৃত অটোট্রলিটি নিরাপদ স্থানে নেওয়ার সময় চালক হঠাৎ গাড়ির সামনে এসে অটোট্রলিতে উঠে হ্যান্ডেল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এতে গাড়িটি উল্টে যায় এবং সামনের গ্লাস ভেঙে চালক সামান্য আহত হন।
এরপর ওই চালক চিৎকার করে আশপাশের থ্রি-হুইলার ও অটোরিকশা চালকদের জড়ো করলে আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল ঘটনাস্থলে সমবেত হয়। একপর্যায়ে তারা হাইওয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলায় কনস্টেবল মো. ইউসুফ আলী ও মো. রাব্বি ইসলাম আহত হন। একই সঙ্গে দুষ্কৃতিকারীরা পুলিশের ডাবল কেবিন পিকআপে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে।
ঘটনার পর জেলা পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং বুড়িচং থানা পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা হাইওয়ে পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি বিনষ্টের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কুমিল্লা জেলা পুলিশ ভবিষ্যতেও কঠোর অবস্থানে থাকবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :