
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা থলিয়াড়া গ্রামে চলতি সংঘর্ষে জড়িত নই এমনকি জড়িত ২ গোষ্ঠীর লোকও নই তবুও লুটপাট ও নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন একটি প্রবাসী পরিবার। ভাঙচুর ও লুটপাটে দেড় কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে।
দিনদুপুরে একদল দুর্বৃত্তের অতর্কিত হামলায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে একটি প্রবাসী পরিবার। রবিবার (৭ জুন) দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে সাহেব বাড়ির কুতুবউদ্দিনের ঘরে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা ২টি ভবনের দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট এবং একটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এতে স্বর্ণালংকার, নগদ রিয়াল, টাকা ও আসবাবপত্রসহ আনুমানিক প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একদল দুর্বৃত্ত কুতুবউদ্দিনের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। আকস্মিক এই হামলায় প্রাণভয়ে ঘরে থাকা নারী ও শিশুসহ পরিবারের সবাই তাড়াহুড়ো করে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা ২টি পাকা বিল্ডিংয়ের দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায়। তারা ঘরের ভেতরের আলমারি ও লকার ভেঙে মোট ৩৭ ভরি স্বর্ণের অলংকার লুট করে। এর মধ্যে তাসলিমা বেগমের ২০ ভরি, তাঁর শাশুড়ি ফুলচান বেগমের ৫ ভরি এবং রুমা বেগমের ১২ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। এছাড়াও ঘরে থাকা নগদ ৯২ হাজার সৌদি রিয়াল ও ৪ লক্ষ টাকা লুটে নেয় দুর্বৃত্তরা।
লুটপাটের পাশাপাশি ঘরে থাকা দুটি ওয়াশিং মেশিন, দুটি ফ্রিজ, টিভি, ছয়টি এসি, বাড়ির দলিলপত্র সহ সকল মূল্যবান আসবাবপত্র নিয়ে যায় হামলাকারীরা। শুধু তাই নয়, বাড়ির পানির ট্যাংক, পাইপলাইনসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়। লুটপাট শেষে দুর্বৃত্তরা একটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়, এতে ঘরের ভেতরের বাকি মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
একই সময়ে কুতুবউদ্দিনের ভাই সাত্তার মিয়ার ঘরেও ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। অভিযুক্তরা হলেন—মো. মোতালিব (পিতা: মৃত নূর ইসলাম), জালাল (পিতা: মৃত মালেক মিয়া), ফুল মিয়া (পিতা: মৃত লালচান মিয়া), মাহাবুব (পিতা: মোমিন মিয়া), আশরাফুল (পিতা: কাসেম), জিসান (পিতা: খায়ের মিয়া), সোহেল (পিতা: নওয়াব), নোমান (পিতা: আবুজাহান), শাওন (পিতা: আবুজাহান), ইমন (পিতা: ফুজুর রহমান), জুয়েল (পিতা: আমির হোসেন), এবং আকরাম (পিতা: কুতুব)। এছাড়াও হামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন অংশ নেয় বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :