
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ কালুর বিরুদ্ধে এক বৃদ্ধের পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মোবারক আলীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারের ভোগদখলে থাকা পৈতৃক সম্পত্তির একটি অংশ জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে বাউন্ডারি নির্মাণ করা হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি হারুনুর রশিদ কালু ওই জমির একটি অংশে বাউন্ডারি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানালে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন মোবারক আলী। এমনকি বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ বা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলে গুম এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তার দাবি।
ভুক্তভোগী মোবারক আলী বলেন, “আমি একজন সাধারণ মানুষ। জীবনের শেষ বয়সে এসে নিজের বাপ-দাদার সম্পত্তি রক্ষার জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ভয়ভীতির কারণে কোথাও অভিযোগ করার সাহস পাইনি। এখন প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”
তিনি আরও বলেন, “হারুনুর রশিদ কালুর এক ছেলে পুলিশে চাকরি করেন। এ কারণে আমি প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের হুমকির মুখে রয়েছি। আমি কোনো ধরনের প্রতিবাদ করলেই আমাকে গুম, খুন ও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। এসব কারণে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।”
মোবারক আলী দাবি করেন, তার কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব নেই। তিনি শুধু তার পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার ফিরে পেতে চান। প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হারুনুর রশিদ কালু। তিনি বলেন, “আমি আমার বৈধ মালিকানাধীন জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণ করছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ থাকায় সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই এবং মাঠপর্যায়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি।
ভুক্তভোগী মোবারক আলী বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত, তার পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের বিপরীতমুখী বক্তব্য এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের কারণে ঘটনাটির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :