
কোলাহল, আড্ডা, ক্লাস আর ব্যস্ততায় মুখর থাকা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) এখন যেন ধরা দিয়েছে এক ভিন্ন রূপে। পবিত্র ঈদুল আযহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে ২২ মে থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত টানা ২৩ দিনের ছুটিতে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রাণচঞ্চল ক্যাম্পাসজুড়ে নেমে এসেছে এক অন্যরকম নীরবতা।
প্রতিদিন যেখানে শিক্ষার্থীদের পদচারণা, বন্ধুদের প্রাণখোলা আড্ডা, সংগঠনগুলোর কর্মব্যস্ততা আর ক্লাসে যাওয়ার তাড়াহুড়ায় মুখর থাকত ক্যাম্পাস, সেখানে এখন বিরাজ করছে শান্ত পরিবেশ। ফাঁকা বেলকনি, জনমানবহীন রাস্তা, নির্জন একাডেমিক ভবন, নিস্তব্ধ চত্বর আর খালি বেঞ্চগুলো যেন জানান দিচ্ছে ছুটির আবহ।
তবে এই নীরবতা একেবারেই প্রাণহীন নয়। শিক্ষার্থীদের কোলাহল কমে যাওয়ায় ক্যাম্পাসে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে প্রকৃতি। দুপুরের নির্জনতায় কিংবা ভোরের কোমল আলোয় ক্যাম্পাসজুড়ে এখন সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে পাখিদের সরব উপস্থিতি। কখনো দল বেঁধে উড়ে যাচ্ছে তারা, আবার কখনো গাছের ডালে বসে মেতে উঠছে নিজেদের ছন্দে। কিচিরমিচির শব্দে ভরে উঠছে পুরো পরিবেশ। গাছের ডালে ডালে দেখা মিলছে শালিক, দোয়েল, চড়ুই বাবুইসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির। সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাসে তারা যেন খুঁজে পেয়েছে স্বস্তির এক নিরাপদ আশ্রয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক, শহীদ মিনার এলাকা, প্রশাসনিক ভবনের আশপাশ, মুক্তমঞ্চ কিংবা গোলচত্তর সবখানেই এখন চোখে পড়ে প্রকৃতির শান্ত সৌন্দর্য। ব্যস্ত দিনের চেনা শব্দগুলো হারিয়ে গিয়ে সেখানে জায়গা করে নিয়েছে বাতাসের মৃদু সোঁ সোঁ শব্দ আর পাখিদের সুরেলা ডাক।
ছুটির এই সময়ে ক্যাম্পাসের পরিবেশ যেন ভিন্ন এক অনুভূতির জন্ম দেয়। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কিছুটা শূন্য মনে হলেও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এটি হয়ে উঠেছে প্রশান্তির এক অনন্য ঠিকানা। মনে হয়, দীর্ঘদিন পর প্রকৃতি যেন নিজের মতো করে ফিরে পেয়েছে তার স্বাভাবিক ছন্দ।
ছুটি শেষে আবারও চেনা রূপে ফিরবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। শ্রেণিকক্ষে বসবে পাঠচক্র, জমে উঠবে আড্ডা, ব্যস্ত হয়ে উঠবে প্রতিটি সড়ক আর চত্বর। শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্যে আবারও মুখর হবে পুরো ক্যাম্পাস। তবে এই কয়েক দিনের নীরবতা যেন এক ভিন্ন সত্যও সামনে এনে দেয়। মানুষের কোলাহল থেমে গেলে প্রকৃতি কীভাবে নিজের সৌন্দর্য মেলে ধরে, কুবির ছুটির ক্যাম্পাস যেন তারই এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। এই শান্ত পরিবেশ মনে করিয়ে দেয়, ব্যস্ততার মাঝেও প্রকৃতির জন্য প্রয়োজন হয় একটু স্বস্তি, একটু নির্মল নিঃশ্বাসের সুযোগ।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :