রাণীনগরে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা নিয়ে উধাও 'এসডিও' নামের এনজিও | Daily AjKaler Kontho

রাণীনগরে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা নিয়ে উধাও ‘এসডিও’ নামের এনজিও


মোঃ রায়হানুল হক, রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : মে ২৫, ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন
রাণীনগরে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা নিয়ে উধাও ‘এসডিও’ নামের এনজিও

নওগাঁর রাণীনগরে সহজ শর্তে বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় শতাধিক সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছে সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন(এসডিও) নামের একটি ভুঁইফোড় এনজিও। গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য দেওয়া হয়েছে ভুয়া ব্যাংক চেক। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মাঝে চরম ক্ষোভ ও হাহাকার বিরাজ করছে। এ ঘটনায় তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর বাজার এলাকায় ‘এসডিও’ নামের এই এনজিওটি কোনো অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম শুরু করে। তারা এলাকার সরল-সোজা ও দরিদ্র মানুষকে টার্গেট করে সহজ শর্তে বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দেয়। ঋণ দেওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম ‘অফিস ফি সঞ্চয় ও ‘ভর্তি ফি বাবদ মোটা অঙ্কের নগদ টাকা আদায় করা হতো। গ্রাহকরা যাতে কোনো সন্দেহ না করেন, সেজন্য অগ্রিম টাকা নেওয়ার পর তাদের হাতে ঋণের সমপরিমাণ টাকার ব্যাংক চেক তুলে দেওয়া হতো।

ভুক্তভোগী সিংগাহার গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ শেফালী খাতুন বলেন আমাকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলে এই এনজিওর কর্মকর্তারা বাড়িতে এসে যোগাযোগ করে। এক সপ্তাহের মধ্যে ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা অগ্রিম ৭ হাজার টাকা দাবি করে। আমি সরল বিশ্বাসে আমার ছেলে মোঃ ইউসুফ প্রামাণিকের মাধ্যমে অফিসে ৭ হাজার টাকা জমা দিই। টাকা জমা দেওয়ার পর অফিস থেকে ছেলেকে একটি ব্যাংক চেক দেওয়া হয়।তিনি আরও জানান, চেকটি হাতে পাওয়ার পর ছেলের মনে সন্দেহ জাগলে সে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে যায়। ব্যাংকের কর্মকর্তারা চেকটি দেখে সরাসরি জানান যে এটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল চেক। ব্যাংক থেকে তাৎক্ষণিক তারা এনজিওর অফিসে ছুটে এসে দেখেন, প্রধান ৪ কর্মকর্তাসহ অফিসের সবাই উধাও হয়ে গেছে।

শেফালী খাতুনের মতো এলাকার আরও বহু সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লোন দেওয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই প্রতারক চক্রটি। অফিস ফাঁকা করে কর্মকর্তারা পালিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগীদের মাঝে হাহাকার ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে এনজিওটির কার্যালয় সম্পূর্ণ তালাবদ্ধ এবং কর্মকর্তাদের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ভুক্তভোগীরা এই প্রতারক চক্রের কর্মকর্তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে তাদের কষ্টার্জিত টাকা উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের সুদৃঢ় ও আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাকারিয়া মন্ডল বলেন “উপজেলার আবাদপুকুর বাজারে ‘এসডিও’ নামের কোনো এনজিওর কার্যক্রমের বিষয়ে আমাদের জানা নেই। চক্রটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে বলে শুনলাম তবে এখন পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগী আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি