
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর শাবলের আঘাতে ফাহমিদা বেগম মোহনা (২৫) নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২৩ মে ২০২৬) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের উত্তর জাঙ্গালহাটা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী জাহিদুল ইসলাম এমরান (৩৫) পলাতক রয়েছেন।
নিহত মোহনা উত্তর জাঙ্গালহাটা গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত জাহিদুল ইসলাম এমরানের স্ত্রী। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। শনিবার বিকেলে ওই বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে স্বামী জাহিদুল ইসলাম এমরান ঘরে থাকা একটি শাবল দিয়ে স্ত্রী মোহনাকে মাথায় আঘাত করেন। আঘাত গুরুতর হওয়ায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে মোহনাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
পরে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী আত্মগোপনে রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুল ইসলাম জানান, “ঘটনার পরপরই আসামি পালিয়ে যায়। তাকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, পারিবারিক কলহ ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে এ ধরনের ঘটনা দিন দিন বেড়ে চলেছে। তারা দ্রুত আসামিকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :