স্বপ্ন ভেঙে কফিনে ফেরা ১১ দিন পর দেশে প্রবাসী শ্রমিকের মরদেহ, দাফন সম্পন্ন | Daily AjKaler Kontho

স্বপ্ন ভেঙে কফিনে ফেরা ১১ দিন পর দেশে প্রবাসী শ্রমিকের মরদেহ, দাফন সম্পন্ন


মো. রিয়াজ, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : মে ২, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ন
স্বপ্ন ভেঙে কফিনে ফেরা ১১ দিন পর দেশে প্রবাসী শ্রমিকের মরদেহ, দাফন সম্পন্ন

পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশায় সৌদি আরবের রিয়াদে পাড়ি দিয়েছিলেন রনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। নির্মম সড়ক দুর্ঘটনায় জীবন থেমে গিয়ে শেষ পর্যন্ত কফিনবন্দি হয়ে বাড়ি ফিরলেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দিঘীরপাড় পালাপাড়া গ্রামের প্রবাসী মো. রনি মিয়া (৩০)।

গত ২১ এপ্রিল সৌদি আরবের রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি। মৃত্যুর ১১ দিন পর শুক্রবার (২ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়। পরদিন শনিবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দিঘীরপাড় পালাপাড়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তিনি ওই এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

শুক্রবার রাতে বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণ করে গ্রামের বাড়িতে আনা হলে সেখানে নেমে আসে হৃদয়বিদারক পরিবেশ। প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী। কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা—যেন একসঙ্গে শোক পালন করছে একটি গ্রাম।

নিহতের বাবা মো. আব্দুর রাজ্জাক ও মা মল্লিকা বেগম শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। মায়ের আহাজারি থামছেই না, বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন তিনি। স্ত্রী দিলরুবা আক্তারও এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না—যার সঙ্গে কিছুদিন আগেও স্বপ্নের কথা বলেছিলেন, সেই মানুষটি আজ নিথর হয়ে শুয়ে আছেন।

রনি মিয়ার দুই শিশু সন্তান—সুমাইয়া আক্তার (৭) ও মুফাসিনা আক্তার (৩)—এখনো পুরো বাস্তবতা বুঝে উঠতে পারেনি। বড় মেয়ে সুমাইয়া কখনো মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে, কখনো আশপাশের কান্না দেখে বিস্মিত হয়। যেন এখনো বিশ্বাস করছে, তার বাবা আবার ফিরে আসবেন।

জানা গেছে, অভাবের সংসারে স্বস্তি ফেরাতে ২০২৪ সালে ফুড ডেলিভারির কাজে সৌদি আরবে যান রনি। তবে মাত্র দুই মাসের মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দেশে ফিরে আসেন। পরে ২০২৫ সালের অক্টোবরে আবারও সৌদি আরবে যান জীবনের চাকা ঘোরানোর আশায়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—গত ২১ এপ্রিল রিয়াদে আরেকটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তার জীবনসংগ্রামের ইতি ঘটে।

নিহতের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার বলেন, স্বামী হারিয়েছি, বিধবা হয়েছি। আমার সন্তানরা এতিম হয়ে গেছে। এখন কীভাবে তাদের মানুষ করব, বুঝতে পারছি না। তিনি সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমীন বলেন, সৌদি আরবে এভাবে শ্রমিকের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি