
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার রহিমাপুর চাকলার ঘাট এলাকায় একটি ব্রিজের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হচ্ছে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের। বিকল্প রাস্তা অনেক দূরে হওয়ায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথেই চলাচল করছেন তারা।
দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী বাঁশের তৈরি একটি অস্থায়ী কালভার্ট ব্যবহার করে আসছিলেন। এই কালভার্ট দিয়েই প্রায় ২০টি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ যাতায়াত করতেন। তবে কিছুদিন আগে কালবৈশাখী ঝড়ে সেটি ভেঙে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
বর্তমানে নদী পারাপারের জন্য কোনো নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকায় ছোট ছোট শিশুদেরও ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে। নদীর ওপারে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি স্কুলে কমে গেছে, অনেকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা গর্ভবতী নারীকে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে হলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এই নদী পারাপার তাদের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
অন্যদিকে, জীবিকার তাগিদে অনেকেই বাধ্য হয়ে দূরের বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করে শহরে যাচ্ছেন, যা সময়সাপেক্ষ ও কষ্টকর। এতে করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের আগে এমপি মহোদয় ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনো কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করে তাদের দুর্ভোগ লাঘব করা হোক। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
আপনার মতামত লিখুন :