নিজের বিয়ে বন্ধ করতে ভুক্তভোগী এসএসসি পরীক্ষার্থী থানার আশ্রয় | Daily AjKaler Kontho

নিজের বিয়ে বন্ধ করতে ভুক্তভোগী এসএসসি পরীক্ষার্থী থানার আশ্রয়


মো: নাজমুল হোসেন, পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি : প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ১০:০২ পূর্বাহ্ন
নিজের বিয়ে বন্ধ করতে ভুক্তভোগী এসএসসি পরীক্ষার্থী থানার আশ্রয়

পিরোজপুরের জিয়ানগরে মেয়ের অমতে পরিবারের জোর করে চাপিয়ে দেওয়া বিয়ে বন্ধ করতে নিজেই থানার আশ্রয় নিয়েছেন ঐ ভুক্তভোগী এসএসসি পরীক্ষার্থী।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাড়াখালী গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী পাত্রী ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা যায়,শুক্রবার উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১নং চাড়াখালী ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলম হাওলাদারের মেয়ে তহমিনা আক্তারকে মেয়ের অমতে প্রবাসী এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার আয়োজন করেন। বিয়েতে মেয়ে তাহমিনা রাজি না থাকায় বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে বিয়ে বন্ধ করার জন্য জিয়ানগর থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। তহমিনার বাবাকে থানায় ডেকে এনে মুচলেকা দিয়ে বাবার হাতে মেয়েকে দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন জিয়ানগর থানা পুলিশ।

শুক্রবার রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে আবারও বিয়ের জন্য পুনরায় মেয়েকে চাপ প্রয়োগ করলে শনিবার সকালে তহমিনা আবারো থানায় গিয়ে পুনরায় অভিযোগ করেন। পরে তাহমিনার বাবা আলম হাওলাদার কে ডেকে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার দ্বিতীয় দফায় মুচলেকা দিয়ে তাহমিনাকে তার বাবার সাথে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

তহমিনা আক্তার সাংবাদিক দের জানান, আমাকে যদি আবারও বাড়িতে পাঠান তাহলে আমাকে জোর করে বিয়ে দিবে আমার বাবা। ৪দিন পরে আমার এসএসসি পরীক্ষা,আমি পরীক্ষা দিতে চাই,লেখাপড়া পরে নিজে প্রতিষ্ঠিত হতে চাই। এ ব্যাপারে আমি প্রশাসন সহ সবার সহযোগিতা চাই।

তাহমিনার বাবা আলম হাওলাদার বলেন,আমি আর্থিকভাবে অসচ্ছল বিধায় ভালো পাত্র পাওয়ায় আমি মেয়ের বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিয়ের আয়োজন করেছি। মেয়ে যেহেতু রাজি নয় তাই আমি মেয়ের উপযুক্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত আর তোমাকে বিয়ে দিবো না।

জিয়ানগর থানার এসআই সাইদুর রহমান জানান, সেতারা স্মৃতি সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী তহমিনা আক্তার বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দুই দফায় থানায় এসেছে। আমরা তার অভিভাবককে ডেকে মুচলেকা নিয়ে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি।