অভিযান-সহায়তা সব ব্যর্থ: মেঘনায় জাটকা নিধন অব্যাহত | Daily AjKaler Kontho

অভিযান-সহায়তা সব ব্যর্থ: মেঘনায় জাটকা নিধন অব্যাহত


জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ন
অভিযান-সহায়তা সব ব্যর্থ: মেঘনায় জাটকা নিধন অব্যাহত

সরকারি নিষেধাজ্ঞা, প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান এবং জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তা—সব উদ্যোগই যেন ব্যর্থ হয়ে পড়েছে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে জাটকা নিধন ঠেকাতে। বাস্তবে নদীর বিভিন্ন এলাকায় এখনও প্রকাশ্যেই চলছে জাটকা শিকার, যা ইলিশ উৎপাদনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকার মার্চ-এপ্রিল দুই মাস জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে মেঘনার নির্দিষ্ট এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এ সময় নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল বিতরণের কথাও রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।

সরেজমিনে লক্ষ্মীপুরের রামগতি, কমলনগর, সদর ও রায়পুর উপজেলার মেঘনা তীরবর্তী এলাকায় দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে জাটকা নিধন চলছে। স্থানীয় বাজার ও আড়তগুলোতেও এসব জাটকা প্রকাশ্যেই বিক্রি হতে দেখা যায়।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই দাদন বা আগাম ঋণের চাপে নিষেধাজ্ঞা ভেঙে নদীতে নামছেন। অন্যদিকে প্রকৃত জেলেদের সবাই খাদ্য সহায়তা না পাওয়ায় জীবিকার তাগিদেও তারা মাছ ধরতে বাধ্য হচ্ছেন।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথা বলা হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই অভিযান পর্যাপ্ত নয়। অনেক ক্ষেত্রে নজরদারির অভাব এবং প্রভাবশালী চক্রের কারণে জাটকা নিধন বন্ধ করা যাচ্ছে না।

তবে এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, “জাটকা সংরক্ষণে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে কাজ চলছে। যারা আইন অমান্য করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকৃত জেলেদের মাঝে খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

সচেতন মহল বলছে, শুধুমাত্র জেলেদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নয়, বরং আড়তদার, দাদন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি প্রকৃত জেলেদের কাছে সঠিকভাবে খাদ্য সহায়তা পৌঁছানো এবং অভিযানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।তাদের মতে, সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া মেঘনায় জাটকা নিধন বন্ধ করা সম্ভব নয় এবং এতে দেশের ইলিশ উৎপাদন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি