ধান ছেড়ে সয়াবিন চাষে ঝুঁকছেন কৃষক, চালের জোগান নিয়ে শঙ্কা | Daily AjKaler Kontho

ধান ছেড়ে সয়াবিন চাষে ঝুঁকছেন কৃষক, চালের জোগান নিয়ে শঙ্কা


জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১০, ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
ধান ছেড়ে সয়াবিন চাষে ঝুঁকছেন কৃষক, চালের জোগান নিয়ে শঙ্কা

লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দিন দিন ধান চাষ ছেড়ে সয়াবিন আবাদে ঝুঁকছেন কৃষকরা। বিশেষ করে রামগতি, কমলনগর ও রায়পুর উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এ প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এতে জেলার কৃষি ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এলেও চালের ভবিষ্যৎ জোগান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট এলাকা ঘুরে এবং কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কম খরচে বেশি লাভের আশায় ধান চাষ থেকে সরে এসে সয়াবিন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন তারা। উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত জমিতেও সয়াবিনের ভালো ফলন হওয়ায় এই পরিবর্তন আরও দ্রুত ঘটছে।

রামগতি উপজেলার এক কৃষক বলেন, “ধান চাষে খরচ বেশি, আবার শ্রমিকও সহজে পাওয়া যায় না। কিন্তু সয়াবিনে খরচ কম, ফলন ভালো—তাই এখন এই ফসলেই ঝুঁকছি।”

কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে ধান চাষে যেখানে খরচ হয় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা, সেখানে সয়াবিন চাষে খরচ পড়ে প্রায় অর্ধেক। পাশাপাশি বাজারে সয়াবিনের চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় লাভের পরিমাণও তুলনামূলকভাবে বেশি।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চরাঞ্চলের অনেক জমিতে ধানের তুলনায় সয়াবিন বেশি উপযোগী হয়ে উঠছে। ফলে কৃষকরা স্বাভাবিকভাবেই লাভজনক এই ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।

তবে এই পরিবর্তনের মধ্যেই সামনে আসছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—ধান চাষ কমে গেলে ভবিষ্যতে চালের জোগান কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, সয়াবিন অর্থকরী ফসল হিসেবে কৃষকের আয় বাড়ালেও এটি খাদ্যশস্য নয়। ফলে ধান উৎপাদন কমে গেলে স্থানীয়ভাবে চালের ঘাটতি তৈরি হতে পারে এবং অন্য জেলার ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষিতে এই পরিবর্তন বাস্তবতার প্রতিফলন হলেও ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। তাদের মতে, “শুধু লাভের বিষয়টি নয়, খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। ধান ও সয়াবিন—দুই ফসলের সমন্বিত চাষই হতে পারে টেকসই সমাধান।”