এমপি না হয়েও কথা রাখলেন সাতক্ষীরার আলহাজ্ব আব্দুর রউফ, রাজনীতিতে বিরল দৃষ্টান্ত | Daily AjKaler Kontho

এমপি না হয়েও কথা রাখলেন সাতক্ষীরার আলহাজ্ব আব্দুর রউফ, রাজনীতিতে বিরল দৃষ্টান্ত


মোঃ আতিয়ার রহমান, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১০, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ন
এমপি না হয়েও কথা রাখলেন সাতক্ষীরার আলহাজ্ব আব্দুর রউফ, রাজনীতিতে বিরল দৃষ্টান্ত

প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুলে যাওয়ার রাজনীতির ভিড়ে এবার ব্যতিক্রমী এক নজির গড়লেন সাতক্ষীরা-২ আসনের বিএনপি নেতা আলহাজ্ব মোঃ আব্দুর রউফ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হলেও জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার থেকে একচুলও সরেননি তিনি। এমপি না হয়েও শাখরা-কোমরপুর ভেঙে পড়া ব্রিজ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে দেখিয়ে দিলেন—রাজনীতি শুধু ক্ষমতার নয়, দায়বদ্ধতারও নাম।

নির্বাচনের আগে এই ব্রিজ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রউফ। কিন্তু ফলাফল তার বিপক্ষে যাওয়ার পরও থেমে থাকেননি। বরং সরাসরি উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে ব্রিজটির জন্য ৬ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা বরাদ্দ নিশ্চিত করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা এই ব্রিজটি সংস্কারে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা ছিল চোখে পড়ার মতো। সেখানে একজন পরাজিত প্রার্থীর এমন উদ্যোগ রাজনীতির প্রচলিত ধারাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে ব্রিজ এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে রউফ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, নির্বাচনে হার-জিত থাকতেই পারে, কিন্তু মানুষের সঙ্গে করা ওয়াদা ভাঙার প্রশ্নই ওঠে না। আমি ছিলাম, আছি, থাকব। তার এই বক্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে যখন নির্বাচন শেষ হলেই অনেক নেতার আর খোঁজ মেলে না, তখন রউফের এই পদক্ষেপ নিছক উন্নয়ন কার্যক্রম নয় এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। এটি প্রমাণ করে, ইচ্ছা থাকলে ক্ষমতা ছাড়াও জনগণের জন্য কাজ করা সম্ভব।

এলাকাবাসী বলছেন, “ভোটে জিতুক বা হারুক—এমন নেতা আমাদের দরকার, যে কথা রাখে।” তাদের দাবি, দ্রুত কাজ শুরু করে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটানো হোক।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, খুব শিগগিরই ঠিকাদারের মাধ্যমে সংস্কার কাজ শুরু হবে। এখন দেখার বিষয় এই উদ্যোগ শুধু একটি ব্রিজেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি এটি রাজনীতির বড় পরিবর্তনের সূচনা করে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু, আলিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ রেজাউল ইসলাম, ভোমরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল আলম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, ভোমরা ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শাহানুর রহমান, দেবহাটা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবাযক সাইদুর রহমান মিন্টু প্রমূখ। এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।