
ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া ৩ নম্বর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এসআই সোহেল রানার কর্মকাণ্ড নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে মাদক ও অপরাধ দমনে তার ধারাবাহিক সাফল্য, অন্যদিকে একটি পুরনো ভিডিও ঘিরে বিতর্ক—দুইয়ের সমন্বয়ে তিনি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর গত প্রায় এক বছর দুই মাসে সোহেল রানা নেতৃত্ব দিয়েছেন একাধিক অভিযানে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তার পরিচালিত অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৩ হাজার পিস ইয়াবা, ৫২০টি অবৈধ ইনজেকশন এবং ২০ গ্রাম হেরোইন।
একই সময়ে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৫০ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। এছাড়া রাজনৈতিক পরিচয়ে জড়িত প্রায় ৪০ জনকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি নিজেই বাদী হয়ে দায়ের করেছেন প্রায় ১২০টি মামলা।
শুধু অভিযানেই সীমাবদ্ধ নন, সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। এর অংশ হিসেবে বিতরণ করেছেন প্রায় ৩০০টি কম্বল। তার এমন বহুমুখী কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে ইতোমধ্যে সাতবার পুরস্কৃত হয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
স্থানীয়দের মতে, তার উপস্থিতি এলাকায় অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। অনেকেই বলছেন, তার নাম শুনলেই মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীরা সতর্ক হয়ে যায়।
তবে এরই মধ্যে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভিডিওটি সাম্প্রতিক নয়; এটি ২০১৯ সালে কিশোরগঞ্জের একটি ইলেকট্রনিক্স দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ, যা আগেও প্রকাশিত হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে দায়িত্বশীল মহল মনে করছে, একজন কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের কর্মদক্ষতা ও অর্জনকে আড়াল করে পুরনো একটি ভিডিও সামনে এনে বিভ্রান্তি তৈরি করা সমীচীন নয়। অনেকেই এটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
সবমিলিয়ে, মাঠপর্যায়ে কঠোর অবস্থান ও নিয়মিত অভিযানের কারণে আকুয়া এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে এসআই সোহেল রানার ভূমিকা যেমন প্রশংসিত হচ্ছে, তেমনি সাম্প্রতিক বিতর্ক তার কার্যক্রমকে ঘিরে নতুন প্রশ্নও তৈরি করেছে।
আজকালের কন্ঠ/আর এস
আপনার মতামত লিখুন :