ত্বকের ধরন বুঝে বানিয়ে ফেলুন ফলের শরবত | Daily AjKaler Kontho

ত্বকের ধরন বুঝে বানিয়ে ফেলুন ফলের শরবত


লাইফস্টাইল ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৪, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ন
ত্বকের ধরন বুঝে বানিয়ে ফেলুন ফলের শরবত

গরমে ত্বক প্রাণহীন ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এ সময় বাইরে থেকে ক্রিম বা ফেসপ্যাক মাখলে ত্বকের জেল্লা ফিরবে না। ভেতর থেকে ত্বককে সজীব ও সতেজ করে তুলতে হবে। সে জন্য প্রয়োজন পুষ্টি উপাদান। আর ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক ফলের শরবত পান করলে ভেতর থেকে সতেজতা ও উজ্জ্বলতা পাওয়া যায়।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য লেবু-পুদিনা বা আম, শুষ্ক ত্বকের জন্য কলা-দই এবং মিশ্র ত্বকের জন্য পেঁপে বা তরমুজের শরবত উপকারী। এই পানীয়গুলো ত্বকে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় এবং পুষ্টি জোগায়। সে জন্য দরকার প্রোটিন, ভিটামিন, ফাইবার ও নানা রকম খনিজ লবণ। তবেই ত্বকের কোষ পুষ্টি পাবে। আর তার জন্য ফলের শরবতের চেয়ে ভালো উপায় আর কিছু নেই। ফলের জলীয় উপাদান ত্বককে আর্দ্র রাখে। এর ভিটামিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ফাইবার ত্বকে কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে।

ফলের শরবত বুঝেশুনে খেতে হবে। ত্বকের ধরন যেমন, সেই অনুযায়ী বেছে নিতে হবে ফল। যার ত্বক স্পর্শকাতর এক ধরনের শরবত বানিয়ে খাবেন, আবার যার ত্বক খুবই তৈলাক্ত, তার জন্য শরবতের রেসিপি হবে অন্য রকম। ত্বকের ধরন বুঝে কে কোনটি খেলে বেশি উপকার পাবেন, তা জেনে নেওয়া ভালো।

যাদের তৈলাক্ত ত্বক, তাদের জন্য তরমুজ ও লেবুর শরবত। তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণের সমস্যা বেশি হয়। তরমুজের জলীয় উপাদান ত্বককে আর্দ্র রাখে এবং লেবুর ভিটামিন ‘সি’ অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করবে। ২ কাপ তরমুজের টুকরো, ১ চামচ লেবুর রস এবং সামান্য বিট লবণ মিশিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। ছেঁকে নিয়ে বরফ দিয়ে পরিবেশন করুন। এর সঙ্গে সামান্য পুদিনাপাতাও মিশিয়ে দিতে পারেন। এতে পেটও ঠান্ডা থাকবে।

আর যাদের শুষ্ক ত্বক, তাদের জন্য পেঁপে ও কলার স্মুদি। ত্বক যদি খুব শুষ্ক ও রুক্ষ হয় এবং র্যাশের সমস্যা থাকে, তাহলে পেঁপের স্মুদি কার্যকরী হতে পারে। পেঁপেতে থাকে ‘প্যাপাইন’ উৎসেচক, যা ত্বকের মৃতকোষ দূর করে। কলা ত্বককে নরম ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। এক কাপ পাকা পেঁপে, অর্ধেকটা পাকা কলা এবং অল্প মধু মিশিয়ে ব্লেন্ড করুন। পানি কম দিয়ে ঘন করে স্মুদি বানান। এরপর সেই স্মুদিতে খানিকটা আখরোট ও কাঠবাদামের কুচি ছড়িয়ে দিতে পারেন।

এবার মিশ্র ত্বকের জন্য শসা, আনারস ও পুদিনার পাতা খান। কারণ ত্বকের ধরন মিশ্র প্রকৃতির যাদের, বিশেষ করে কপাল ও নাক তৈলাক্ত, কিন্তু গাল শুষ্ক, তাদের ত্বকের জন্য শসাই ভালো। শসা ত্বকের পিএইচের ভারসাম্য বজায় রাখে। একটি মাঝারি শসা, এক কাপ আনারসের টুকরো, এক মুঠো পুদিনা পাতা এবং সামান্য আদা দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। এটি শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি ত্বকের কালচে ভাব দূর করে দেয়।

আবার অ্যান্টি-এজিং শরবতও খেতে পারে। ত্বকের ভারে অল্প বয়সে বুড়োর ছাপ পড়েছে। এটি দূর করতে এমন শরবত খেতে হবে, যাতে ভিটামিন ‘সি’ আছে; আবার অ্যান্টি-অক্সিডেন্টেও ভরপুর। এমন শরবত ত্বকে কোলাজেন তৈরি করবে ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোকে সজীব করে তুলবে। এর জন্য বেদানা ও আঙুরের রস মিশিয়ে শরবত বানালে তা বেশি উপকারী। এক কাপ বেদানার দানা ও আধাকাপ আঙুর মিশিয়ে রস তৈরি করুন। এতে সামান্য গোলমরিচ গুঁড়ো মেশাতে পারেন স্বাদের জন্য।

আর রোদে পোড়া দাগছোপ যদি বেশি হয়, গাল ও গলার কাছে কালচে ছোপ পড়ে; তাহলে কমলালেবু, গাজর ও বেদানা মিশিয়ে শরবত বানিয়ে ফেলুন। ১টি বড় গাজর, ১টি কমলালেবু এবং অর্ধেকটা বেদানার রস বের করে নিন। এতে সামান্য গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে সকালে প্রাতঃরাশের সঙ্গে পান করুন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি