যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের তরুণী নিশাতের জানাজার নামাজ সম্পন্ন | Daily AjKaler Kontho

যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের তরুণী নিশাতের জানাজার নামাজ সম্পন্ন


ছাইম ইবনে আব্বাস, গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১, ২০২৬, ২:২৪ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের তরুণী নিশাতের জানাজার নামাজ সম্পন্ন

নিউইয়র্কের উডসাইড এলাকায় এক হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি তরুণী নিশাত জান্নাত। ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির হৃদয়ে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

নিহত নিশাতের বাবা হেলাল আহমদ স্থানীয় বায়তুল জান্নাহ মসজিদের ইমাম। জীবনের নশ্বরতা, ধৈর্য ও ঈমানের কথা যিনি প্রতিনিয়ত মানুষকে শোনান, তাকেই আজ দাঁড়াতে হয়েছে সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি—নিজ সন্তানের জানাজা পড়াতে হয়েছে তাকে। যে মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে তিনি অসংখ্য মানুষকে সান্ত্বনা দিয়েছেন, সেই মসজিদের প্রাঙ্গণেই শেষবারের মতো শায়িত ছিল তার প্রিয় কন্যা।

মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) রাত প্রায় ১২টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ট্রেন থেকে নেমে উডসাইডের রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ ও ৬২ স্ট্রিটের সংযোগস্থলে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন নিশাত। এ সময় পশ্চিম দিক থেকে আসা ‘রয়্যাল ওয়েস্ট সার্ভিসেস’-এর একটি বড় আকারের প্রাইভেট গারবেজ ট্রাক হঠাৎ ডান দিকে মোড় নিতে গিয়ে তাকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

২০১৭ সালে সিলেট থেকে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান নিশাত। তিনি সিটি কলেজ অব নিউইয়র্কে পড়াশোনা করছিলেন এবং পাশাপাশি জ্যামাইকার একটি পার্কিং গ্যারেজে পার্ট-টাইম রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে তিনি ছিলেন সবার ভরসা।
ঘটনার রাতে দেরি হওয়ায় মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে ঘটনাস্থলে পৌঁছান তার বড় বোন নওশিন। সেখানে গিয়ে তিনি যে দৃশ্য দেখেন, তা ছিল এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের মতো। নিশাত রেখে গেছেন দুই ছোট বোন (৪ ও ৯ বছর বয়সী) এবং এক বড় বোনকে।

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (NYPD) হাইওয়ে ডিস্ট্রিক্ট কলিশন ইনভেস্টিগেশন স্কোয়াড ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ৩৮ বছর বয়সী ট্রাক চালক ঘটনাস্থলেই ছিলেন, তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ‘রয়্যাল ওয়েস্ট সার্ভিসেস’ শোক প্রকাশ করে তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

এদিকে, নিউইয়র্কে ব্যক্তিমালিকানাধীন আবর্জনা বহনকারী ট্রাকগুলোর বেপরোয়া চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

জানাজা শেষে নিশাতকে নিউজার্সির একটি মুসলিম কবরস্থানে দাফন করা হয়। একজন বাবার জন্য এটি ছিল এক অসহনীয় মুহূর্ত—মেয়েকে কবর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন নিজের হৃদয়ের একটি অংশও মাটিচাপা দিয়ে এলেন তিনি।

উডসাইডের সেই ব্যস্ত মোড়ে এখন আর নিশাত নেই, কিন্তু তার স্মৃতি আর একটি পরিবারের কান্না বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। এই মৃত্যু শুধু একটি প্রাণহানি নয়, এটি অবহেলা ও নিরাপত্তাহীনতার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি—যা প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে গভীরভাবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি