
কৃষিজমিতে হেভি মেটালের মাত্রা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াছিন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এতে মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা কমছে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
শুক্রবার সকালে কুমিল্লা সার্কিট হাউজ-এ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান।
মন্ত্রী জানান, শিল্পবর্জ্য, অপরিকল্পিত রাসায়নিক ব্যবহার, নদীভাঙন এবং চরাঞ্চলে অবৈধ মাটি কাটার কারণে জমিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি বাড়ছে। বিশেষ করে গোমতী নদী-এর চর থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন,আজ থেকে গোমতীর এক ইঞ্চি মাটিও কাউকে কাটতে দেওয়া হবে না। গোমতীর মাটি রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হলো।”
মন্ত্রী জানান, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবৈধভাবে মাটি কাটা বা পরিবহনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রউফ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সুফিয়ান, পরিচালক শামসুল আলম এবং চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পরিচালক এস এম কায়সার আলীসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা।
সভায় কৃষিজমির মাটি পরীক্ষা জোরদার করা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাঠপর্যায়ে মনিটরিং কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হবে এবং গোমতী নদী ও আশপাশের চরাঞ্চলে নিয়মিত তদারকি চালানো হবে।
সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষিজমি সংরক্ষণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :