
সারাদেশের ২৯৯টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবধানে—১ লাখ ৭০ হাজার ৬২২ ভোটে জয় পেয়েছেন রাঙামাটির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। এই বড় জয়কে সামনে রেখে তাকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী করার দাবি উঠেছে রাঙামাটির বিভিন্ন মহল থেকে।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের অনেকেই বলছেন, এটি শুধু দাবি নয়, রাঙামাটির অধিকার। তাদের মতে, পাহাড়ের রাজধানী রাঙামাটি অনেক বছর ধরে মন্ত্রীত্ব থেকে বঞ্চিত। উন্নয়নেও পিছিয়ে আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই এবার বড় বিজয়ের পর রাঙামাটির একজন প্রতিনিধিকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া উচিত।
অনেকেই বলছেন, এবারের নির্বাচনে দীপেন দেওয়ান শুধু একটি দলের প্রার্থী ছিলেন না। পাহাড়ের বিভিন্ন দল, মত ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষ তাকে সমর্থন দিয়েছেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরও বড় একটি অংশ তার পক্ষে ভোট দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। ফলে তার বিজয়কে তারা ‘সবাইয়ের জয়’ হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি মাঠে সক্রিয় ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বড় কোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ শোনা যায়নি। এজন্য অনেকেই তাকে শান্ত ও গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে মনে করেন।
সচেতন মহলের মতে, পাহাড়ের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তার ভালো ধারণা রয়েছে। তাকে মন্ত্রী করা হলে পাহাড়ের মানুষ সরকারের প্রতি আরও আস্থা পাবে এবং উন্নয়ন কাজ এগিয়ে যাবে।
এদিকে একটি বিষয় নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। দীপেন দেওয়ান যে এলাকায় বড় হয়েছেন, সেই এলাকার নাম ‘মন্ত্রীপাড়া’। তার বাবা সুবিমল দেওয়ান একসময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। স্থানীয়রা বলেন, সেই ঐতিহ্যের কারণেই এলাকার নাম হয়েছে ‘মন্ত্রীপাড়া’।
সব মিলিয়ে রাঙামাটির বিভিন্ন মহলের প্রত্যাশা—ঐতিহাসিক এই বিজয়ের সম্মান রেখে দীপেন দেওয়ানকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী করা হোক, যাতে তার নেতৃত্বে পাহাড়ে উন্নয়ন ও সম্প্রীতির নতুন পথ তৈরি হয়।
আজকালের কন্ঠ/ আর এস/বি
আপনার মতামত লিখুন :