
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-২ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ও এনসিপি নেতা ড. আতিক মুজাহিদ (শাপলা কলি)। বৃহস্পতিবার রাতে প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণার পর এই তথ্য নিশ্চিত করে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মোট প্রাপ্ত ভোটের মধ্যে ড. আতিক মুজাহিদ পেয়েছেন ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পেয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭০০ ভোট। ফলে প্রায় ১০ হাজার ৮০০ ভোটের ব্যবধানে তিনি এগিয়ে থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
তবে ড. আতিক মুজাহিদ নিজস্ব ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, তিনি প্রায় ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। এ বিষয়ে ভোট গণনার চূড়ান্ত হিসাব নিয়ে তিনি কুড়িগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলেও উল্লেখ করেন।
এই আসনের অন্তর্ভুক্ত ফুলবাড়ী উপজেলা, রাজারহাট উপজেলা ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা—এই তিন উপজেলায় মোট ২০৫টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনী এলাকায় মোট ভোটার ছিলেন ৬ লাখ ৪ হাজার ৭৩৬ জন।
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করে।
ভোটগ্রহণের দিন সকাল থেকেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটারদের ভোট দিতে দেখা গেছে। ভোটাররা আশা প্রকাশ করেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে অগ্রাধিকার দেবেন।
নির্বাচনী প্রচারণাকালে ড. আতিক মুজাহিদ স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় সভা করেন। তিনি তার ইশতেহারে নদীভাঙন রোধ, কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত, যুবসমাজের কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
ফলাফল ঘোষণার পরপরই বিভিন্ন এলাকায় তার সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা যায়। দলীয় কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে শাপলা কলির সমর্থকরা বিজয় উল্লাসে অংশ নেন।
জয়ের পর এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, “এই বিজয় আমার একার নয়, কুড়িগ্রাম-২ আসনের সর্বস্তরের মানুষের। আপনারা যে আস্থা রেখেছেন, তা ধরে রাখতে আমি আজীবন চেষ্টা করবো। কুড়িগ্রামকে একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ জনপদে পরিণত করাই আমার লক্ষ্য।”
চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :