বরিশালে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও লুটতরাজমুক্ত, শিক্ষা-বান্ধব ও শিল্প-বান্ধব গড়ার অঙ্গীকার | Daily AjKaler Kontho

বরিশালে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও লুটতরাজমুক্ত, শিক্ষা-বান্ধব ও শিল্প-বান্ধব গড়ার অঙ্গীকার


জামাল কাড়াল, বরিশাল প্রতিনিধি : প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১০, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ন
বরিশালে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও লুটতরাজমুক্ত, শিক্ষা-বান্ধব ও শিল্প-বান্ধব গড়ার অঙ্গীকার

ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বরিশাল গঠনে শায়খে চরমোনাইয়ের দৃঢ় প্রত্যয় বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি—চাঁদাবাজি, দখলবাজি, লুটতরাজ ও দুর্নীতিমুক্ত একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক নগরী। এই জনআকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখেই বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর শায়খে চরমোনাই মুফতী ফয়জুল করীম বরিশালের সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন ও নৈতিক সমাজ গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত গণসংযোগ, পথসভা, গণমিছিল ও মহিলা সমাবেশে হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে—বরিশালবাসী আর সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের দুঃশাসন চায় না। তারা চায় ন্যায়, ইনসাফ, জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণভিত্তিক রাজনীতি।

মুফতী ফয়জুল করীম বলেন,“বরিশালকে চাঁদাবাজি মুক্ত, দখলবাজি মুক্ত ও লুটতরাজ মুক্ত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। এই জনপদে আর কোনো মায়ের বুক খালি হবে না, কোনো ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে চাঁদা আদায় করা হবে না, কোনো সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে তার জমি বা বসতভিটা দখল করা যাবে না।”

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি শুধু রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না, এটি সমাজের নৈতিক ভিত্তিকে ধ্বংস করে দেয়। সে কারণে প্রশাসন থেকে শুরু করে প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হবে। বরিশাল হবে একটি দুর্নীতিমুক্ত, পরিশীলিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ নগরী।

মাদক, কিশোর গ্যাং ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান।শায়খে চরমোনাই বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাং বরিশালের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি। এই সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেওয়া হবে। মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও সমাজবিরোধীদের কোনো দলীয় পরিচয় বা প্রভাব বরদাশত করা হবে না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও সমাজকে সম্পৃক্ত করে নৈতিকতা ও মূল্যবোধভিত্তিক সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণ সমাজকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা হবে।

ভিন্ন ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি তিনি বলেন, বরিশাল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জনপদ। এখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করবে।ধর্মের নামে বিভাজন নয়—বরিশালে প্রতিষ্ঠিত হবে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্মান।

নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বরিশাল হবে এমন একটি শহর—যেখানে নারী হয়রানি, সহিংসতা ও বৈষম্যের কোনো স্থান থাকবে না। নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। পরিবারভিত্তিক মূল্যবোধ ও নৈতিক সমাজ গঠনের মাধ্যমে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত শিল্প ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে শায়খে চরমোনাই বলেন, বরিশালের যুবসমাজকে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে পরিকল্পিত শিল্পায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং স্থানীয় শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হবে। নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ও আধুনিক বাজারব্যবস্থার মাধ্যমে বরিশালকে একটি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী অঞ্চলে রূপান্তর করা হবে।

শিক্ষা ব্যবস্থায় শুদ্ধতা ও মানোন্নয়ন শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বরিশালের শিক্ষা ব্যবস্থাকে দলীয়করণ, সন্ত্রাস ও অনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। মাদরাসা ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে নৈতিকতা ও আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের রাজনীতি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হবে।

নদীভাঙন রোধ, নগর নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন নদীভাঙন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কীর্তনখোলা নদীসহ বরিশালের নদীভাঙন রোধে টেকসই ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থার মাধ্যমে বরিশালকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য শহরে রূপান্তর করা হবে।

দলীয় প্রভাবমুক্ত প্রশাসন ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিতকরণ-মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, বরিশালে আর কোনো দলীয় পরিচয়ে অপরাধী রক্ষা পাবে না। থানা, ভূমি অফিস, সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ যেন ঘুষ, দালাল ও হয়রানি ছাড়া সেবা পায়—সে জন্য প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা হবে। সরকারি সেবা হবে জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও দ্রুতগতির।

স্বাস্থ্যখাতে দালালমুক্ত পরিবেশ ও মানবিক চিকিৎসা স্বাস্থ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার। বরিশালের সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালাল চক্র, অবহেলা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের জন্য বিশেষ সহায়তা ও তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হবে, যাতে অর্থের অভাবে কেউ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়।

তিনি বলেন তরুণ সমাজকে ধ্বংসাত্মক রাজনীতির হাত থেকে বের করে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে গড়ে তোলা হবে। মেধা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করাই হবে ভবিষ্যৎ বরিশালের শক্তি।বরিশালবাসী আজ পরিবর্তন চায়—দলীয় দখলদারিত্ব নয়, চাঁদাবাজদের রাজত্ব নয়, বরং ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক নেতৃত্ব। সেই পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে হাতপাখা মার্কায় ভোট দিয়ে জনতার বিজয় নিশ্চিত করার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়

আজকালের কন্ঠ/আর এস/জে