অনলাইন রিটার্নে প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা রাজস্ব এসেছে: এনবিআর চেয়ারম্যান | Daily AjKaler Kontho

অনলাইন রিটার্নে প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা রাজস্ব এসেছে: এনবিআর চেয়ারম্যান


আজকালের কন্ঠ ডেস্ক প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৫, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ন
অনলাইন রিটার্নে প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা রাজস্ব এসেছে: এনবিআর চেয়ারম্যান

অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার পর রিটার্নের মাধ্যমে সরাসরি প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, গত বছর যা ছিল প্রায় ১৭০ কোটি টাকা। এই তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৭ লাখ করদাতা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩৪ লাখ করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন।

গত দেড় বছরে ট্যারিফ বাড়ানো হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, এটা নিশ্চিত থাকেন ট্যাক্স কালেকশন বাড়ানোর জন্য গত দেড় বছরে আমরা ট্যারিফ বাড়াইনি। বরং জনগণের স্বার্থে চাল, পেঁয়াজ, আলু, সয়াবিন আমদানিতে ডিউটি কমিয়ে দিয়েছি। কোনো অবস্থায় চিন্তা করিনি এগুলো কমালে এত হারে রাজস্ব কমে যাবে। আমরা বলেছি এটা জনস্বার্থে প্রয়োজন।

ফলের আমদানির ওপর উচ্চ করের হার কমানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু জায়গায় ভুল তথ্য থাকে। আমরা দেড় বছরে ফলের উপরে কোনো ডিউটি বাড়াইনি। বরং ফল আমদানির ওপর আগে ১০ শতাংশ ইনকাম ট্যাক্স ছিল, সেটি কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। একইভাবে খেজুর আমদানির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যহারে ডিউটি কমানো হয়েছে।

ডলারের মূল্য বাড়ার কারণে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তিনি। বলেন, ডলারের দাম নতুন করে সেট হলো, বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্য বাড়ার বড় একটি কারণ। ডলারের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। ডলারের মূল্য দুই বছর আগে যেখানে ৮০-৮৫ টাকা ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ১২৬-১২৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে বিদেশ থেকে যে কোনো পণ্য আমদানিতে খরচ স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে। বিদেশে থেকে ফল বা যাই আনবেন, এটাই পণ্যমূল্য বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় কারণ।

আবদুর রহমান খান বলেন, সরকার সামগ্রিকভাবে শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার (রেশনালাইজেশন) দিকে এগোচ্ছে। ট্যারিফ ট্রান্সফরমেশন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে শুল্ক কমানোর সুপারিশ রয়েছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ আর উচ্চ শুল্ক কাঠামো ধরে রাখতে পারবে না।

তবে দেশীয় শিল্প সুরক্ষার স্বার্থে কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক বাড়ানো হয় বলেও জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।

রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, লক্ষ্যমাত্রা চ্যালেঞ্জিং হওয়ায় কিছু গ্যাপ থাকলেও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি খারাপ নয়। অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার পর আমাদের রাজস্ব আদায় বেড়েছে।

এসময় তিনি আশা প্রকাশ করেন, শেষ সময়ে প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ করে রিটার্ন জমা পড়তে পারে। প্রয়োজনে সময় বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এনবিআরকে দুই ভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে সংস্থাটির চেয়ারম্যান বলেন, ব্যবস্থাপনা ও নীতিনির্ধারণ- এই দুই অংশ আলাদা করার কাজ চলছে। শিগগির কমিটির বৈঠক, গেজেট প্রকাশ এবং সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে। কাজটি চ্যালেঞ্জিং হলেও নির্বাচনের আগেই অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি