জুতা নিক্ষেপের ঘটনায় জাককানইবি শিক্ষার্থী বহিষ্কার | Daily AjKaler Kontho

জুতা নিক্ষেপের ঘটনায় জাককানইবি শিক্ষার্থী বহিষ্কার


জাককানইবি প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৪, ২০২৬, ৫:২১ অপরাহ্ন
জুতা নিক্ষেপের ঘটনায় জাককানইবি শিক্ষার্থী বহিষ্কার

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে জুতা নিক্ষেপের ঘটনায় দুই বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে তার আজীবনের জন্য হলের আবাসিক সুবিধাও বাতিল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে ১৪ জানুয়ারি জারিকৃত এক চিঠিতে জানানো হয়, ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসনিম আহমেদকে এ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত নং–০৩(ক) অনুযায়ী এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৯০তম সিন্ডিকেট সভার তারিখ থেকে পরবর্তী দুই বছর তাসনিম আহমেদ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম, ক্লাসে উপস্থিতি ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বহিষ্কৃত থাকবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না এই মর্মে তাকে মুচলেকা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তাসনিম আহমেদ দৈনিক আজকালের কন্ঠ–কে বলেন, “গত বছর ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্রীয় ইফতারের টোকেন দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে আমাদের হলের শিক্ষার্থীরা যৌক্তিক দাবি জানিয়ে আন্দোলনে অংশ নিই। আন্দোলনের এক পর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু ছোড়াছুড়ি হয়। আমি জুতা নিক্ষেপ করি, তবে তা কাউকে লক্ষ্য করে ছিল না।”

তিনি আরও বলেন, “পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করে এবং আমাকে সেখানে ডাকা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে আমি ক্ষমা প্রার্থনাও করি। আমার উদ্দেশ্য কাউকে আঘাত করা ছিল না। তবুও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি আমি সম্মান প্রদর্শন করছি।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, “আমি কেবল শাস্তিসংক্রান্ত চিঠির বিষয়েই বলতে পারবো। ঘটনার বিস্তারিত প্রক্টর জানাতে পারবেন, কারণ তিনি শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যসচিব ও তদন্ত কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।”
এ বিষয়ে প্রক্টর মো. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ মার্চ হলের ইফতারে ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের টোকেন না দেওয়াকে কেন্দ্র করে হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ইফতার বয়কটের ডাক দিয়ে প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে নামেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি