
ময়মনসিংহ থেকে হোসেনপুর রাস্তার অনিয়ম দূর্নীতি নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ১ম পর্ব।
ঈশ্বরগঞ্জ–মধুপুর ও হোসেনপুর–দেওয়ানগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি বর্তমানে বাস্তবায়িত হচ্ছে ৭০১ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে। প্রকল্পটি দুটি প্যাকেজে ভাগ করে বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। তবে মাঠপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি, ভূমি অধিগ্রহণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণ বণ্টন নিয়ে উঠেছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ।
প্যাকেজ–০১ এর কাজের বিবরণ:
১। সড়ক প্রশস্তকরণ – ৬.৮ কিলোমিটার
২। সড়ক মজবুতিকরণ – ১৮.৫ কিলোমিটার
৩। নতুন সড়ক নির্মাণ – ৬.৮৬ কিলোমিটার
৪। সারফেসিং – ১৯ কিলোমিটার
৫। রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ – ০.৯৫ কিলোমিটার
৬। সেতু – ১টি (৮৫ মিটার)
৭। কালভার্ট – ২৪টি (মোট ৫৪ মিটার)
৮। আরসিসি ইউ-ড্রেন – ২,৭৮০ মিটার
৯। প্যালাসাইডিং – ৪,১৪০ মিটার
প্যাকেজ–০২ এর কাজের বিবরণ:
১। সড়ক প্রশস্তকরণ – ৬.২ কিলোমিটার
২। সড়ক মজবুতিকরণ – ১৬.৩ কিলোমিটার
৩। নতুন সড়ক নির্মাণ – ১০.০ কিলোমিটার
৪। সারফেসিং – ১০ কিলোমিটার
৫। রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ – ২.৫ কিলোমিটার
৬। সেতু – ১টি (৩৪ মিটার)
৭। কালভার্ট – ১৪টি (মোট ৪৪ মিটার)
৮। আরসিসি ইউ-ড্রেন – ৫,০০০ মিটার
৯। প্যালাসাইডিং – ২,০১৪ মিটার
মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং টিমের মন্তব্য:
মনিটরিং টিম মাঠ পরিদর্শনকালে কিশোরগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, প্রকল্পটি দুটি প্যাকেজে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্যাকেজ–১ ও ২ এর আওতায় ইতোমধ্যে যথাক্রমে ৪টি ও ৩টি কালভার্ট নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।
উভয় প্যাকেজেই সোল্ডারে মাটি ফেলার কাজ চলমান রয়েছে।
তবে মাটি ভরাটের পর যথাযথ কম্প্যাকশন না থাকায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে ঠিকাদারকে সরাসরি নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বাজার এলাকায় ৫০০ মিটার রিজিড পেভমেন্টের কাজ সম্পন্ন হলেও সেখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। মনিটরিং টিম স্পষ্টভাবে ড্রেনেজ পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়।
সেতু নির্মাণের বর্তমান অবস্থা:
প্যাকেজ–১ এর আওতায় নির্মাণাধীন পিসি গার্ডার সেতুর অ্যাবাটমেন্ট ওয়াল সম্পন্ন হয়েছে।
প্যাকেজ–২ এর আওতায় বিদ্যমান বেইলি সেতুর স্থলে পিসি গার্ডার সেতুর পাইলিং কাজ চলমান।
এ সময় মনিটরিং টিম নির্দেশনা দেয়, সেতু নির্মাণ চলাকালে বেইলি সেতু সচল ও রক্ষণাবেক্ষণে রাখতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বিঘ্ন না ঘটে।
ভূমি অধিগ্রহণ ও প্রশাসনিক জটিলতা:
প্রকল্পের আওতায় বাঁক সরলীকরণ ও ৬.৮৬ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণ জরুরি।
কিশোরগঞ্জ অংশে ২টি ভূমি অধিগ্রহণ মামলা চলমান, যৌথ তদন্ত কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি।
ময়মনসিংহ অংশে ডিএলএসি সভা অনুষ্ঠিত হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
মনিটরিং টিম দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্নের জন্য জেলা প্রশাসকের সাথে সমন্বয়ের নির্দেশে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সাথে বৈঠকও করে একাধিকবার
ডিসি অফিসের চিঠি, কিন্তু সওজের নীরবতা:
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ও হোসেনপুর পৌরসভা
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে আনুষ্ঠানিক ভাবে চিঠি দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেয়নি হোসেনপুর নতুন বাজার এলাকাবাসী।
এনিয়ে জানতে চাইলে হোসেনপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী শেখ ফরিদ তিনি বলেন,,,,
তাছাড়াও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কিশোরগঞ্জ মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান বলেন,,,,,,
সওজ কর্মকর্তাদের বক্তব্য:
ময়মনসিংহ বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, মোঃ রাশেদুল আলম
ময়মনসিংহ সড়ক সার্কেল তিনি দায় এড়াতে কৌশলে আমাদের উত্তর দেন,,,,,
ভূমি অধিগ্রহণ শেষ না হওয়ায় কিছু কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।
উনার সাথে তাল মিলিয়ে কিশোরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী সওজ শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন,,,,
ভূমি অধিগ্রহণে দুর্নীতি ও বৈষম্যের অভিযোগ:
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভূমি অধিগ্রহণে চরম বৈষম্য ও অনিয়ম হয়েছে।
দাগ নম্বর ১২৯৮
তিনতলা বাড়ি ও তিনতলা ফাউন্ডেশন পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও পূর্ণ বিল প্রদান করা হয়েছে।
দাগ নম্বর ১২৫৭
বাবা নেই এমন এক ভুক্তভোগীর জমিতে তিনতলা ফাউন্ডেশন থাকা সত্ত্বেও অসম্পূর্ণ ও বৈষম্যমূলক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
শুধু একজন নয়, একই দাগে একাধিক ভুক্তভোগী এই বৈষম্যের শিকার বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য,
এটি সাধারণ ভুল নয়—সংগঠিত অনিয়ম ও দুর্নীতির স্পষ্ট ইঙ্গিত।
ভুক্তভোগীদের দাবি:
দ্রুত আরসিসি ড্রেন নির্মাণ করে জলাবদ্ধতা নিরসন
ভূমি অধিগ্রহণে পুনঃতদন্ত ও ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণ
প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ
শেষ কথা:
৭০১ কোটি টাকার এই প্রকল্পে এখন প্রশ্ন একটাই—
এটি জনগণের উন্নয়ন, না কিছু মানুষের সুযোগ নেওয়ার উৎস?
দ্বিতীয় পর্বে উঠে আসবে আরও বড় দুর্নীতির তথ্য ও নথি।
এতক্ষণ ধৈর্য সহকারে আমাদের সংবাদটি দেখার জন্য আপনার অসংখ্য ধন্যবাদ,।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :