ভাই আপনাদের মানুষ ৭১ সালেই দেখেছে জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান | Daily AjKaler Kontho

ভাই আপনাদের মানুষ ৭১ সালেই দেখেছে জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান


ছাইম ইবনে আব্বাস, সিলেট প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২২, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ন
ভাই আপনাদের মানুষ ৭১ সালেই  দেখেছে জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান

দেশে ফের ভোট চুরির গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে এবং আগের মতোই ভোট ডাকাতির পথে হাঁটছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মৌলভীবাজার জেলার শেরপুর এলাকার আইনপুর খেলার মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “আজ পত্রপত্রিকা খুললেই দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখলেই দেখা যায়—দেশের ভেতরে ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন স্থানে এনআইডি কার্ড ও মোবাইল নম্বর নিয়ে সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে মা-বোনদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। এখন আবার নতুন করে একই প্রক্রিয়া শুরু করার চেষ্টা চলছে।

“আমরা সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি—ব্যালট পেপার গায়েব করে ফেলা হচ্ছে, নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ আবারও ভোট চুরির অপচেষ্টা শুরু হয়েছে,”—বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের মাধ্যমে এই জেলার চারটি আসনের প্রতিটি মানুষকে বলতে চাই—অত্যন্ত সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। কারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করেই এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।”

বক্তব্যের একপর্যায়ে জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, “১৯৭১ সালে এই দেশের মাটিতে মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ত মিশে আছে। সেই সময় কারা দেশের পক্ষে ছিল আর কারা বিপক্ষে ছিল—তা দেশের মানুষ স্পষ্টভাবে দেখেছে। ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না।”

তিনি বলেন, “যদি ওই সময় তারা দেশের পক্ষে দাঁড়াত, তাহলে লক্ষ লক্ষ মানুষকে শহীদ হতে হতো না, মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি ঘটত না। দেশের মানুষ তাদের ভূমিকা ৫০ বছর আগেই দেখে ফেলেছে।”

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরে যে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ ঘোষণার কথা বলেছিলেন, সেই পরিকল্পনার বিস্তারিতও তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, “আমার সেই প্ল্যানের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে দেশের বেকার যুবসমাজ। শিক্ষিত, অল্পশিক্ষিত কিংবা অর্ধশিক্ষিত—সবাই যেন কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, আমরা সেই ব্যবস্থা করতে চাই।”

তারেক রহমান জানান, শুধু দেশে নয়—বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও যুবকদের প্রস্তুত করতে চায় বিএনপি। “যারা লন্ডন, মধ্যপ্রাচ্য বা বিশ্বের অন্য দেশে যেতে চায়, তাদেরকে আমরা প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা দিয়ে পাঠাতে চাই। দক্ষ হয়ে গেলে তাদের আয় বাড়বে, জীবন বদলাবে।”

চা শ্রমিক, দিনমজুর ও নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড মৌলভীবাজার অঞ্চলের চা শ্রমিকদের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, জেলায় প্রায় ১৩০টির মতো চা বাগান রয়েছে, যেখানে বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

তিনি বলেন, “এই শ্রমিক পরিবারগুলোর জন্য আমরা ফ্যামিলি কার্ড চালু করতে চাই। এই কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা অথবা নগদ সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে সংসার চালাতে পারেন।”

তিনি আরও বলেন, শুধু চা শ্রমিক নয়—দিনমজুর, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের স্ত্রীদেরও এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।

বিএনপি চেয়ারম্যান জানান, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারীদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনরা আমাদের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকেন—জীবনে ও মৃত্যুতেও। তাই রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের সম্মানী নিশ্চিত করতে চাই, যাতে তারা আত্মসম্মান নিয়ে সমাজে বসবাস করতে পারেন।”

বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শুরু হওয়া এই নির্বাচনী জনসভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি