
সিলেট-৬ সংসদীয় আসন (গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজার) ঘিরে চলমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটলো শেষ মুহূর্তের এক নাটকীয় সিদ্ধান্তে। বিএনপির মনোনয়ন দৌড় থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য ফয়সল আহমদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার তিনি সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন জমা দেন। এর আগে সোমবার বিএনপি সিলেট-৬ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীকে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেয়।
এ বিষয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি গত ১৭ জানুয়ারি সিলেটের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে এমরান আহমদ চৌধুরীকে সিলেট-৬ আসনের একমাত্র দলীয় প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে বিএনপির মনোনয়ন পান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। পরে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিবেচনায় জেলা বিএনপির সদস্য ফয়সল আহমদ চৌধুরীকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়। এতে এলাকায় তৈরি হয় আলোচনা ও জল্পনা। তবে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে এমরান আহমদ চৌধুরীকেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পর তিনি সংসদ নির্বাচনের মাঠে নামছেন।
অন্যদিকে, ফয়সল আহমদ চৌধুরী ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে অংশগ্রহণ করেন। ওই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী নিয়ে চলমান দ্বিধা ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটলো। এখন দলীয়ভাবে একক প্রার্থী নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।
সিলেট-৬ আসনে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :