
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরীকে (১৮) একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার ফুপাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর ভুক্তভোগী কিশোরী প্রায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর নাম আখিনূর। সে দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের তালুকদারহাট বাজার গ্রামের বাসিন্দা আজিম খান ও কহিনুর দম্পতির মেয়ে। আখিনূরের মা কহিনুর স্থানীয়ভাবে মানুষের বাসায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ মাস আগে আখিনূরের ফুপাতো ভাই সাইফুল তাদের বাড়িতে যান। ওই সময় আখিনূরের মা বাড়িতে না থাকায় সুযোগ নিয়ে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন সাইফুল। পরবর্তীতে একাধিকবার একই কাজ করেন বলে অভিযোগ।
কিছুদিন আগে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পেলে এলাকাবাসী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে তার ফুপাতো ভাই সাইফুলের নাম জানায়। অভিযুক্ত সাইফুল একই ইউনিয়নের তালতলী গ্রামের বাসিন্দা সালাম হোসেনের ছেলে এবং পেশায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক।
ঘটনাটি জানাজানি হলে সাইফুল অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বিয়েতে অস্বীকৃতি জানান। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর আখিনূরের মায়ের অনুপস্থিতিতে একাধিকবার বাড়িতে এসে মেয়েটিকে মারধর করেন এবং কাউকে কিছু না বলতে হুমকি দেন।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করলেও অজানা কারণে কোনো সুরাহা হয়নি বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী আখিনূর বলেন, আমি সাইফুলকে চাই, তার বউ হতে চাই।
তার মা কহিনুর বলেন, আমার এই মেয়ের সঙ্গে যারা এমন অন্যায় করেছে, আমি তাদের বিচার চাই। আমার মেয়ের গর্ভের সন্তানের স্বীকৃতি চাই।
এ বিষয়ে দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত সাইফুলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ঘটনা। আমি এর সঙ্গে জড়িত নই। মেডিকেল টেস্ট করলেই প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসবে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে, স্থানীয়রা এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সঠিক সুরাহা দাবি করেন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :