চরমপন্থীরা যেভাবে দেওয়ানবাগীর শিক্ষার অপব্যবহার করছে | Daily AjKaler Kontho

চরমপন্থীরা যেভাবে দেওয়ানবাগীর শিক্ষার অপব্যবহার করছে


কাজী পারভেজ প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৫, ২০২৩, ৭:৪১ অপরাহ্ন
চরমপন্থীরা যেভাবে দেওয়ানবাগীর শিক্ষার অপব্যবহার করছে

পবিত্র ধর্মের মূল সুর যেখানে শান্তি, মানবতা, পরমতসহিষ্ণুতা এবং আধ্যাত্মিক মুক্তি, সেখানে আজ এক শ্রেণীর কায়েমি স্বার্থান্বেষী উগ্রবাদী গোষ্ঠী নিজেদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক এজেন্ডা হাসিলের জন্য ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষ করে, সুফি সম্রাট দেওয়ানবাগী হুজুরের প্রকৃত আধ্যাত্মিক শিক্ষা এবং মোহাম্মদী ইসলামের উদার ও মরমী দর্শনকে সাধারণ মানুষের কাছে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে সমাজে চালানো হচ্ছে। চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো তাদের নিজস্ব সংকীর্ণ মতবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেওয়ানবাগী হুজুরের বাণী ও আধ্যাত্মিক তত্ত্বগুলোর সম্পূর্ণ অপব্যাখ্যা ও অপব্যবহার করছে, যা সরলমনা সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে এক বিভ্রান্তিকর অন্ধকারের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে।

এই সংকটের মূল কারণ হলো, ইসলামের আধ্যাত্মিক, বাতেনী ও মরমী ধারা সম্পর্কে সঠিক এবং উদার জ্ঞানের অভাব। সুফিবাদ বা দেওয়ানবাগী হুজুরের প্রকৃত দীক্ষা হলো মানুষের অন্তরের কলুষতা দূর করা, নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করে আত্মশুদ্ধি অর্জন করা এবং স্রষ্টার প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসায় নিজেকে সঁপে দেওয়া। এটি মানুষকে মানুষ হিসেবে ভালোবাসতে শেখায় এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করে। কিন্তু উগ্রবাদী ও চরমপন্থীরা এই শান্তির বাণী এবং উদার সামাজিক সহাবস্থানকে সহ্য করতে পারে না। কারণ মানুষের মাঝে প্রকৃত আধ্যাত্মিক চেতনার উন্মেষ ঘটলে তাদের ধর্মের নামে ভীতি প্রদর্শন ও ফায়দা লুটার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তারা এই শিক্ষাগুলোর খণ্ডিত ও মনগড়া ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে সমাজকে চরমপন্থার দিকে ধাবিত করছে এবং দেওয়ানবাগী ও তাঁর অনুসারী সুফি সম্প্রদায়ের প্রতি সাধারণ মানুষের মনে একটি কৃত্রিম নেতিবাচক ধারণা ও ঘৃণা তৈরি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

আজ সময় এসেছে এই তৈরি করা অন্ধত্ব ও প্রচারণার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সত্যকে দর্শন করার। যেকোনো ধরণের উগ্রতা ও গোঁড়ামি সমাজের শান্তি ও প্রগতির জন্য সবচেয়ে বড় ধ্বংসাত্মক উপাদান। আমার বিনীত আহ্বান, ‘হেফাজত-এ-ইসলাম’-এর মতো যেকোনো চরমপন্থী বা উগ্রবাদী গোষ্ঠীর দেওয়া বিভ্রান্তিকর বক্তব্য, উস্কানিমূলক ওয়াজ এবং অন্ধ প্রচারণায় চোখ বন্ধ করে পা দেওয়ার আগে, আপনারা নিজেরা সত্য অনুসন্ধান করুন। কোনো পীর, আধ্যাত্মিক সুফি সাধক বা নির্দিষ্ট কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অন্ধভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের মূল কিতাব, প্রকৃত শিক্ষা, দর্শন ও ইতিহাস নিজ দায়িত্বে এবং নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যাচাই করে দেখুন। অন্ধ অনুকরণ নয়, বরং যুক্তিবোধ এবং সত্যের আলোকেই কেবল উগ্রবাদের এই বিষবাষ্পকে সমাজ থেকে চিরতরে দূর করা সম্ভব।