
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা তিনটি চালকল (চাতাল) সরকারি খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে নিম্নমানের চাল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বাউফল উপজেলার বগা ও কালাইয়া খাদ্য গুদামের জন্য মোট ১ হাজার ৫৩০ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কালাইয়া খাদ্যগুদামের জন্য ৫৫০ মেট্রিকটন এবং বগা খাদ্যগুদামের জন্য ৯৮০ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহ করা হবে। প্রতি কেজি চালের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা।
এই চাল সংগ্রহের জন্য উপজেলার পাঁচটি চাতালের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। চাতালগুলো হলো— সোনাই অটো রাইস মিল, সিকদার অটো রাইস মিল, সুচিত্রা রাইস মিল, হিরোনবালা রাইস মিল ও মের্সাস প্যাদা রাইস মিল।
চুক্তি অনুযায়ী, মিল মালিকরা স্থানীয় বাজার থেকে ধান সংগ্রহ করে নিজ নিজ চাতালে প্রক্রিয়াজাত করে মানসম্মত চাল সরকারি খাদ্য গুদামে সরবরাহ করার কথা। এর মধ্যে বগা খাদ্য গুদামের জন্য সোনাই অটো রাইস মিল এবং কালাইয়া খাদ্য গুদামের জন্য সিকদার অটো রাইস মিল, সুচিত্রা রাইস মিল, হিরোনবালা রাইস মিল ও মের্সাস প্যাদা রাইস মিলের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সোনাই ও সিকদার অটো রাইস মিল চালু থাকলেও সুচিত্রা রাইস মিল, হিরোনবালা রাইস মিল ও মের্সাস প্যাদা রাইস মিল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে এসব চাতালে ধান ভাঙানো, সিদ্ধকরণ কিংবা শুকানোর কোনো কার্যক্রম নেই। মিল ভবনে তালা ঝুলছে এবং যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সুচিত্রা রাইস মিলের মালিক রমেশ সাহা নওপাড়া রাইস মিল থেকে চাল কিনে এনে ইতোমধ্যে ২৬ মেট্রিকটন চাল খাদ্য গুদামে সরবরাহ করেছেন। তবে কাগজে-কলমে দেখানো হয়েছে, তিনি স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে নিজ চাতালে চাল উৎপাদন করেছেন। খাদ্যগুদামের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, সরবরাহকৃত চাল নিম্নমানের।
এ বিষয়ে রমেশ সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
সুচিত্রা রাইস মিলের পাশেই অবস্থিত হিরোনবালা রাইস মিলটিও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এই মিল থেকে ৫৩ মেট্রিকটন চাল সরবরাহের চুক্তি রয়েছে। মিলটির মালিক শঙ্কর দাস স্বীকার করে বলেন, তিনি বাহির থেকে চাল কিনেই সরবরাহ করবেন। তিনি আরও বলেন, ‘সবাই এভাবেই চাল সরবরাহ করে। অফিসের সবাইকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেই কাজ করা হয়।’
একই এলাকায় অবস্থিত মের্সাস প্যাদা রাইস মিলও কয়েক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। মিলটির মালিক আবদুর রশিদ প্যাদা জানান, তিনি এখনো চাল সরবরাহ শুরু করেননি। তবে মিল বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে চাল কিনে খাদ্য গুদামে সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় কৃষক মো. মিল্টন প্যাদা, মো. আলমগীর, মো. ফারুক হোসেনসহ অন্তত ১৫ জন কৃষক বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে যদি চাতাল মালিকরা স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে চাল তৈরি করে খাদ্য গুদামে সরবরাহ করতেন, তাহলে কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য পেতেন। এতে কৃষিকাজে আগ্রহ আরও বাড়ত।
অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. নুরুল্লাহ বলেন, ‘যখন চুক্তি করা হয়েছিল, তখন চাতালগুলো চালু ছিল।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :