ল্যাট্রিন নির্মাণে দুর্নীতি: ‘এমন ল্যাট্রিন দেওয়ার চেয়ে না দিলেই ভালো ছিল’ | Daily AjKaler Kontho

ল্যাট্রিন নির্মাণে দুর্নীতি: ‘এমন ল্যাট্রিন দেওয়ার চেয়ে না দিলেই ভালো ছিল’


জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫, ১২:২৮ অপরাহ্ন
ল্যাট্রিন নির্মাণে দুর্নীতি: ‘এমন ল্যাট্রিন দেওয়ার চেয়ে না দিলেই ভালো ছিল’

লক্ষ্মীপুরে বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবির অর্থায়নে চলমান “টুইন পিট ল্যাট্রিন” নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভুয়া নাম ব্যবহার ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নামে কাজ বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্পের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। কোটি টাকার এই প্রকল্পে নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদার নিয়োগ না করে প্রভাবশালী একটি মহলের ইচ্ছামতো কাজ ভাগ করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

জানা যায়, ২০২৫ সালের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর ও রামগঞ্জ উপজেলায় মোট ৯ হাজার ৩৮৯টি টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে সদরের ২১টি ইউনিয়নে ৪৮০৯টি, রায়পুরের ১০টি ইউনিয়নে ২২৯০টি এবং রামগঞ্জের ১০টি ইউনিয়নে ২২৯০টি ল্যাট্রিন নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব বরাদ্দে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় এনজিও ও জেভি–৩ “ড্রপ অ্যান্ড ওয়াটার এইড”–এর প্রতিনিধিরা উপকারভোগীর তালিকা প্রণয়ন করেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, অনেক স্থানে কাজ অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়া, নগদ লেনদেন, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে প্রকল্পটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণের মান এতটাই নিম্নমানের যে এসব টয়লেট স্থায়িত্ব হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকের অভিমত—

“এমন ল্যাট্রিন দেওয়ার চেয়ে না দিলেই ভালো ছিল।”

এছাড়া কাগজপত্রে বরাদ্দ দেখালেও বাস্তবে অনেক পরিবার ল্যাট্রিন না পাওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এদিকে জানা যায়, বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী বিলকিস আক্তার লক্ষ্মীপুরে যোগদানের আগেও গাজীপুরে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তবুও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সচেতন মহলে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, দায়মুক্তির সংস্কৃতি চলতে থাকলে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

তবে নির্বাহী প্রকৌশলী বিলকিস আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সবকিছু নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যমূলক।”

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, যথাযথ নজরদারি না থাকলে হতদরিদ্র মানুষের জন্য নেওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দুর্নীতির কারণে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে।