
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী যুবককে পিটিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৪)। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গোটা এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত যুবকের নাম দিপু চন্দ্র দাস (২৭)। তিনি একজন সাধারণ শ্রমিক ছিলেন। শনিবার (২০ ডিসেম্বর ২০২৫) রাতে ভালুকা উপজেলার একটি এলাকায় সংঘটিত এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
র্যাব-১৪ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পরপরই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে একাধিক অভিযান পরিচালনা করেন। এসব অভিযানে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে সাতজনকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
১. মোঃ লিমন সরকার (১৯),
২. মোঃ তারেক হোসেন (১৯),
৩. মোঃ মানিক মিয়া (২০),
৪. মোঃ এরশাদ আলী (৩৯),
৫. মোঃ নিজুম উদ্দিন (২০),
৬. মোঃ আলমগীর হোসেন (৩৮) এবং
৭. মোঃ মিরাজ হোসেন আকন (৪৬)।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে দিপু চন্দ্র দাসের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে কিংবা হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত টহল জোরদার করে। র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
র্যাব-১৪ জানায়, এটি একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুতর অপরাধ। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, হামলার পেছনের মূল কারণ নির্ণয় এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে এবং তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে নিহত দিপু চন্দ্র দাসের পরিবার এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহল মনে করছেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টকারী এ ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :