এবার পাকিস্তানের জাতীয় পতাকার পাশে আঁকা হলো ভারতের পতাকা | Daily AjKaler Kontho

এবার পাকিস্তানের জাতীয় পতাকার পাশে আঁকা হলো ভারতের পতাকা


জবি প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫, ৪:৪০ অপরাহ্ন
এবার পাকিস্তানের জাতীয় পতাকার পাশে আঁকা হলো ভারতের পতাকা

বিজয় দিবস উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) পাকিস্তানের পতাকা আঁকার পর তার পাশেই এবার ভারতের পতাকা এঁকেছে শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপর দেড়টার দিকে এই পতাকা আঁকে জবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশের বিজয়কে নিজেদের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে কুক্ষিগত করার পাঁয়তারা করছে। যার প্রতিবাদে এই উদ্যোগ নিয়েছে তারা।

আইন বিভাগের ১৬ ব্যাচ ব্যাচের শিক্ষার্থী ফয়সাল বলেন ,নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশের স্বাধীনতার কুক্ষিগত করার জন্য পোস্ট দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে তারা আমাদের সহায়তা করেছিলো আমাদের রিজিয়ন দখল করার জন্য । মোদির ওই পোস্টের প্রতিবাদ জানিয়ে আমার ভারতের পতাকা একেছি।

এর আগে বিজয় দিবসের দিন রাত একটায় জবির প্রধান ফটকের সামনে পাকিস্তানের পতাকা আঁকা শুরু করে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রঅধিকারের কতিপয় নেতাকর্মী। এসময় তারা ক্যাম্পাসের ফটক দিয়ে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসকে বের হতে বাঁধা সৃষ্টি করে। এসময় প্রথমে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে তাদের বাঁধা দেয়। এই নিয়ে শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের মধ্যে বাকবিতণ্ডা, হাতাহাতি ও ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

একপর্যায়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফিনের এর নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রাতভর প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় তারা উপাচার্যের গাড়ি অবরোধ করে রাখে। পরে ভোর পাঁচটার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অবরোধ তুলে নিলে ক্যাম্পাস ছেড়ে যান উপাচার্য সহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, জুলাইয়ের পর আমরা মনে করেছিলাম, ভিন্নমতকে প্রকাশ করতে পারবে। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানের গণহত্যা ও আমাদের মা-বোন উপর অত্যাচাারের প্রতিকী প্রতিবাদের জন্য একজনের উপর বাংলাদেশ বিরোধী কিছু দালাল হামলা করেছে। জবিতে কোনো স্বৈরাচার কিংবা মবতন্ত্রের আত্মপ্রকাশ করতে পারবে না। ছাত্রদল বাংলাদেশের জন্য ঘুমায় না। সবার আগে বাংলাদেশ।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, বিজয়ের মাসে প্রতিকী প্রতিবাদে পাকিস্তানের পতাকা আঁকতে গেলে প্রথমে প্রক্টরিয়াল বডির দ্বারা বাধাগ্রস্থ হয়। পরবর্তীতে আস-সুন্নাহ হলের কিছু শিক্ষার্থীদরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে। এসময় সাংবাদিকদের উপরও হামলা করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ এর গণহত্যায় কিছু পাকিস্তানি সমর্থকরা সম্রথন জুগিয়েছিল। তাদের প্রেতাত্মারা এখনও বাংলাদেশে।রয়েছে। পাকিস্তানকে হেয় করলে তাদের অন্তরে জ্বালা করে। সেই জায়গা থেকে পাকিস্তানি পতাকা এঁকে প্রতিকী প্রতিবাদে তারা বাধা দিয়েছে।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. তাজাম্মুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে পতাকা আঁকতে গেলে অনুমতি প্রয়োজন। তারা অনুমতি না নিয়েই পতাকা অংকন শুরু করে। শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসকে ক্যাম্পাস থেকে বের হতে বাঁধা দেয়।

আজকালের কন্ঠ/আর বি