
ইসলামের মূল ভিত্তি হলো শান্তি, সমতা এবং মানবতার কল্যাণ। অথচ বর্তমান সময়ে ধর্মের দোহাই দিয়ে এক শ্রেণীর চরমপন্থী গোষ্ঠী যেভাবে সহিংসতা ও উগ্রবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে, তা ইসলামের এই প্রকৃত ও পবিত্র মূল্যবোধকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই উগ্রবাদীরা কোনো ধরণের সমালোচনা বা ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না। যখনই তাদের কোনো ভুল বা অপব্যাখ্যার বিরুদ্ধে যুক্তিপূর্ণ কথা বলা হয়, তখনই তারা আদর্শিক বা বুদ্ধিভিত্তিক লড়াইয়ে ব্যর্থ হয়ে সরাসরি শারীরিক সহিংসতা ও বর্বরোচিত আক্রমণের পথ বেছে নেয়।
কোনো সুস্থ ও সভ্য সমাজে এই ধরণের সহিংস আচরণ কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। উগ্রবাদীদের এই উগ্রতা ও পরমতসহিষ্ণুতার অভাব কেবল সমাজের শান্তিই নষ্ট করছে না, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসলামের যে শান্তিপূর্ণ, উদার ও মানবিক রূপ রয়েছে, তার ওপরও একটি গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তারা ধর্মের নামে যে উগ্র আচরণ করছে, তা অন্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কাছে ইসলামের সামগ্রিক সৌন্দর্য ও শান্তির বার্তাকে ভুল এবং বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে। ফলে সাধারণ মানুষের মনে ধর্ম সম্পর্কে এক ধরণের ভীতি ও ভুল ধারণার সৃষ্টি হচ্ছে।
সহিংসতা কখনো কোনো মতবাদকে টিকিয়ে রাখতে পারে না, বরং তা আদর্শের দেউলিয়াগ্রস্ততাই প্রমাণ করে। ইসলাম কখনো জোর-জুলুম বা পেশীশক্তি প্রদর্শন সমর্থন করে না। প্রকৃত ধর্মীয় মূল্যবোধ হলো ধৈর্য, যুক্তি এবং ভালোবাসার মাধ্যমে মানুষের মন জয় করা। তাই আমাদের সবাইকে এই উগ্রবাদের প্রকৃত রূপ অনুধাবন করতে হবে। সমাজের প্রগতি, শান্তি এবং অন্য সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার স্বার্থে এই ধরণের উগ্র ও সহিংস মানসিকতাকে সম্মিলিতভাবে বর্জন করা এখন সময়ের দাবি। কেবল পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অহিংসার মাধ্যমেই ইসলামের প্রকৃত শান্তির বাণীকে সমাজে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
আপনার মতামত লিখুন :