
বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও নেক হায়াত কামনায় কুমিল্লার মুরাদনগরে অনুষ্ঠিত হলো বিরল ধর্মীয় আয়োজনে সাজানো এক দোয়া মাহফিল। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, মুরাদনগরের পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ নিজ উদ্যোগে ৫০০ বার পবিত্র কুরআন খতম, অসংখ্য গরু–ছাগল সাদাকাহ, এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ এবং পবিত্র মক্কা শরিফে বকরি সাদাকাহ ও উমরাহ করান খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায়।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে আকুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে হাজারো মানুষের ঢল নামে। ইউনিয়নজুড়ে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।মাহফিলের শেষ পর্যায়ে দেশনেত্রীর সুস্থতার জন্য মোনাজাত পরিচালনা করেন সাবেক মন্ত্রী কায়কোবাদ। মোনাজাতের ফাঁকে ফাঁকে তাকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। তার এই কান্না মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে জনতার ভিড়ে। প্রবীণ মানুষগুলো হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। দীর্ঘসময় অশ্রুসিক্ত পরিবেশে দোয়া মাহফিল জুড়ে নেমে আসে এক অপার বেদনাবিধুর দৃশ্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কায়কোবাদ উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে বলেন—“আমাদের আপোষহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য আপনারা সবাই দুই রাকাআত নফল নামাজ পড়ে দোয়া করবেন—করবেন তো?”তার কথার সঙ্গে সঙ্গে হাজারো মানুষ হাত উঠিয়ে সম্মতি জানান।“আজকের আমাদের এই সমাবেশ, এই দোয়া—সবই বেগম জিয়ার সুস্থতার জন্য। তিনি এমন একজন নেত্রী যাকে স্বামী থেকে শুরু করে সন্তান—সবকিছুই কষ্ট দিয়েছে। বিনা অপরাধে কারাবরণ করেছেন। অন্যায়ের মুখে মাথা নত করেননি। দুইদিন হাসপাতালে গিয়ে তাকে দেখে এসেছি। কথা বলতে কষ্ট হয়… আল্লাহ যেন তাকে সুস্থতা ও নেক হায়াত দান করেন।”
তিনি আরও বলেন,“এই মুরাদনগরে ৫০০ বেশি কোরআন খতম হয়েছে। গরু-ছাগল সাদাকাহ হয়েছে। মক্কায় বকরি সাদাকাহ হয়েছে। সমস্ত দোয়া–খতমের একটাই উদ্দেশ্য—খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি।”“এই বাংলাদেশে বেগম জিয়ার প্রকৃত রাজনৈতিক উত্তরসূরি তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশি–বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। আপনারা তার সুস্থতা আর নিরাপদে দেশে ফেরার জন্য দোয়া করবেন।”
“জামায়াতপন্থী এক প্রার্থী নাকি বলছেন, তাকে জেতালে তিনি কোরআনের শাসন কায়েম করবেন। কোরআনের শাস আনতে হলে আগে নিজের জীবনে কোরআন অনুসরণ করতে হবে। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন—কিন্তু পাঁচ বছরে একটি স্কুল বা রাস্তার উন্নয়নও করেননি।”“আজকে আমার বোনেরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়েছেন—তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাদের সমস্যা শুনে সমাধানের চেষ্টা করব। মুরাদনগরের ভাইয়েরা তো ধানের শীষের জন্য পাগল। সবাই মিলেই এই মুরাদনগরকে আরও সুন্দর করে গড়ে তুলব।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক আক্তারুজ্জামান সরকার এবং সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সী।অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা যুবদলের আহবায়ক সোহেল সামাদ, জেলা বিএনপির সদস্য নাসির উদ্দীন নয়ন ও মোঃ শরীফ খান।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ—গোলাম মহিউদ্দিন মোল্লা, মোল্লা মজিবুল হক, কামাল উদ্দীন ভুইয়া, শাহ আলম সরকার, নজরুল ইসলাম, আব্দুল আজিজ মোল্লা, ফারুক সরকার মজিব, দুলাল সরকারসহ আরও অনেকেই।
আজকালের কন্ঠ/আর এস/এস
আপনার মতামত লিখুন :